ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে জায়েজ করা হচ্ছে: সাকি

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২৩, ১৪:১০

ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে জায়েজ করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, এত আত্মত্যাগ, এত রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রে ৫২ বছর পর এসে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে সেটিকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে জায়েজ করা হয়, উন্নয়ন দিয়ে জায়েজ করা হয়। অথচ সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। তাদের জীবনে কিন্তু মুক্তি আসেনি। রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে অল্প সংখ্যক মানুষ ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন।

রবিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সাকি আরও বলেন, যারা সম্পদ সৃষ্টি করেন তাদের জীবন আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। যারা আগে যে মানের জীবনযাপন করতো তাদের একই মানের জীবন যাপন করতে এখন আরো বেশি শ্রম দিতে হচ্ছে। এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের এখানে যে শাসন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, গঠনগত দিক দিয়ে তা স্বৈরাচারী। সাংবিধানিকভাবে স্বৈরাচারী। একে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার একটি ফ্যাসিবাদী শাসনে পরিণত করেছে। আমরা মনে করি দেশের শাসন ব্যবস্থা বদলের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশের মানুষের যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ছিল তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

দেশে বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা বদলাতে হবে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, একে গণতান্ত্রিক করতে হবে, জবাবদিহিপূর্ণ করতে হবে এবং তার মধ্য দিয়ে শ্রমিক-কৃষকসহ যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শক্তি ছিলেন রাষ্ট্রে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ভোটাধিকার হচ্ছে তার প্রথম সংগ্রাম। ভোটাধিকার না থাকলে অন্য কোনো গণতান্ত্রিক অধিকারই থাকতে পারে না। ফলে কোনো অবস্থাতেই ভোটাধিকার হরণ করাকে জায়েজ করা যায় না। এর চাইতে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বিষয় আর কিছু থাকতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, কোনো প্রস্তুতি ছাড়া নির্বাচনে গেলে বিরোধী দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। আমরা তো কালকেই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। বিরোধী দলের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। বিপুল জনসমর্থন আছে। কিন্তু নির্বাচন তো নির্বাচনের মতো হতে হবে। এটা যদি ১৪ সাল বা ১৮ সালের মতো হয়, দিনের ভোট ডাকাতি কিংবা রাতে ভোট ডাকাতি অথবা ডিজিটাল ডাকাতি হয় সেটা তো কোনো নির্বাচন হলো না। ফলে নির্বাচন আয়োজনের যে পরিবেশ সেটা আমরা দাবি করছি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয় সেই কথাটা আমরা বলছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দিন পাপ্পু, জুলহাস নাইম বাবু সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, ঢাকা জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বাচ্চু মিয়াসসহ আরও অনেকে।

(ঢাকাটাইমস/২৬মার্চ/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :