আন্দোলন জোরদারে ফের সক্রিয় হচ্ছেন বিএনপি নেতারা

জাহিদ বিপ্লব, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২০ | প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১৮

ঢাকায় ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। গ্রেপ্তার করা হয় সক্রিয় অধিকাংশ সিনিয়র নেতাদের। আর গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান জেলের বাইরে থাকা নেতারা। আত্মগোপনে থাকা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বলছেন, নেতাদের আটক করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হবে, হয়েছেও তাই। তাই যেভাবেই হোক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন পর্যন্ত কারাগারে যাওয়া যাবে না। যে কারণে দলটির হাইকমান্ডের নির্দেশে অধিকাংশ নেতারাই পুরোনো মোবাইল সিম পরিবর্তন করে ব্যবহার করেছেন নতুন নাম্বার।

এদিকে একমাস অনেকটা আত্মগোপনে থাকার পর ধীরে ধীরে রাজপথে নামছেন বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ মধ্যসারির নেতারাও। ব্যবহার করতে শুরু করেছেন পুরোনো নাম্বার। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সরকার বিচ্ছিন্নভাবে সারাদেশে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রাখলেও তফসিল ঘোষণার পর সরকার রাজপথে প্রকাশ্যে বিরোধী দলের সভাসমাবেশে হামলা করতে পারবে না।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, সরকার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে এবং নির্বাচন প্রতিহত করতে স্বয়ং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দফায় দফায় কথা বলছেন। ২৮ অক্টোবরের পর বিভিন্ন নেতা ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে বললেও ৩০ নভেম্বর থেকে গ্রুপভিত্তিক কথা বলছেন তিনি।

সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, সারা দেশে তৃণমূল নেতাকর্মীর ভূমিকায় সন্তুষ্ট হলেও সিনিয়র নেতাদের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা নেই তারা রাজপথে না নামায় তাদের ভর্ৎসনা করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের প্রলোভনে পড়ে নির্বাচনমুখী না হওয়ায় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের এক উপদেষ্টা ঢাকা টাইমসকে বলেন, প্রায় একমাস দলটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ভার্চুয়ালি কথা হয়নি। এখন আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনে সফলতা আনতে পুরোদমে সক্রিয় হবো। তিনি বলেন, আমি নিজেও এতদিন আগের মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে নতুন সিম ব্যবহার করেছি। আমরা অচিরেই রাজপথে নামবো। রাজপথে নামার জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রাখার জন্য জেলা নেতাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ৩০ নভেম্বর মনোনয়ন জমার দেওয়ার পর থেকে প্রমাণ হয়েছে এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, যা বিএনপি আগে থেকেই বলে এসেছিল। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, বাসাবাড়িতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক দল বা কোনো মানুষ কোনো অবস্থাতেই এই প্রহসনের নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারে না। বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। দেশের জনগণের কাছে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে আমরা রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরে যাবো।

বিএনপির সম্পাদক মণ্ডলীর এক সদস্য ঢাকা টাইমসকে জানান, তারেক রহমান ইতোমধ্যে অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন। যেহেতু নির্বাচনে জোর করে নেওয়ার আর সম্ভাবনা নেই, তাই এখন জেলকে ভয় না পেয়ে আমাদের আন্দোলনমুখী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারাগার এড়ানোর জন্য স্বয়ং তারেক রহমানই বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের আন্দোলনমুখী করতে অল্প সময়েই মধ্যে রাজধানীতে একটি সমাবেশের পরিকল্পনা করছে দলটি। এ সমাবেশে সরকারের টার্গেট যেসব নেতা তাদেরকে সামনে না এনে অপেক্ষাকৃত মিডিয়াতে কম পরিচিতি মধ্যসারির নেতাদের সমাবেশ সফল করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। জানা যায়, আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে একটি সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। সমাবেশটি সরাসরি বিএনপির ব্যানারে না হলেও ২৯ নভেম্বর নির্যাতিত পরিবারের স্বজনদের মতো আরেকটি ব্যানারে করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ঢাকা টাইমসকে বলেন, ২৫ মার্চ নিরস্ত্র জাতির ওপর পাকবাহিনী হামলা চালিয়ে যেভাবে স্বাধীনতাকামী জনতাকে এক করেছিল, তেমনিভাবে ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে, জনগণের সমাবেশে সরকার যেভাবে নারকীয় হামলা চালিয়েছে তার প্রতিবাদে গোটা জাতি আজ এ সরকারের পতন ঘটাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নিরংকুশ মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশবাসীকে মুক্ত করার এ আন্দোলন বৃথা যেতে পারে না।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্য ছয়মাস যাবত জনপ্রিয় নেতাদের সরকার সাজা দিয়ে আসছে। যাদেরকে প্রলোভনে ফেলতে পারবে না, তাদেরকে রাষ্ট্রীয়যন্ত্র ব্যবহার করে আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ বছর কোনো ভয়ভীতি আমাদের থামাতে পারেনি। আমরা মাঠের কর্মী। এখন তো রাজনীতি নেই, এটি এখন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এই লড়াইয়ে জয়লাভ করার জন্য নেতাকর্মীরা উন্মুখ হয়ে আছে। অতিদ্রুত সবকিছু প্রস্তুতি নিয়ে আমরা মাঠে নামবো।

(ঢাকা টাইমস/৪ডিসেম্বর/জেবি/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

এবার দল পুনর্গঠনে বিএনপি 

বিদ্যুৎ খাতে লুণ্ঠন নীতির মাশুল জনগণ দেবে না: গণতন্ত্র মঞ্চ

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে: ওবায়দুল কাদের

সদ্য কারামুক্ত আলালের বাসায় গয়েশ্বর

৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের চক্রান্তে বিএনপির এক নেতার বাবা জড়িত ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের প্রতি প্রতিশোধ নিতেই সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে: রিজভী

মাতৃভাষা দিবসে যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা

রক্তে অর্জিত ভাষাকে বিদেশি আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে হবে: শিবির সভাপতি

কখনো যুব মহিলা লীগ নেত্রীর দুলাভাই কখনো স্বামী, অবশেষে প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার

উপজেলা নির্বাচনে জামানত বৃদ্ধির প্রস্তাব অস্বাভাবিক: মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :