সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মাদ্রাসাছাত্র নিহত

‘পাগড়ি পরা হইল না বাপের, আমার কান্দনের শ্যাষ নাই’

আহম্মেদ মুন্নী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:১১ | প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:২৪
নিহত হাফেজ ওমর ফারুকের বাবা রাজন মিয়া

‘বাড়ি থেইকা বাইক নিয়া আইছিলাম পোলার কাছে। ওরে আইজ হাফেজী পাগড়ি পরানোর কথা আছিলো। সেই বাইক সাইট কইরা রাখার কথা বইলা বন্ধুগোর নিয়া বাইর হইছিল। এহন আমার পোলা নাই। আমার কান্দনের শ্যাষ নাই।’

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে এভাবেই বিলাপ করছিলেন দক্ষিণখানের আশকোনায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত মাদ্রাসাছাত্র ওমর ফারুকের বাবা রাজন মিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যায়।

ওই দুর্ঘটনায় ‍ওমর ফারুকের দুই সহপাঠীও নিহত হয়েছে। তাদের একজন রবিউল ইসলাম, অন্যজন জুনায়েদ ইসলাম। তারা তিনজন আশকোনা এলাকার মাহাদু সুন্নাহ মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

এর মধ্যে রবিউল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার রহিম মিয়ার ছেলে এবং জুনায়েদ ইসলাম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শফিকুল ইসলামের ছেলে।

নিহত ওমর ফারুকের বাবা রাজন মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার বাড়ি রূপগঞ্জে। সেইখান থেইকা বাইকে কইরা আশকোনায় পোলার মাদ্রাসায় আইছিলাম। মাদ্রাসায় মাহফিল আছিলো। সেইখানে আমার পোলারে হাফেজী পাগড়ি পরানোর কথা আছিলো।’

রাজন মিয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মাদ্রাসায় বাইক নিয়ে পৌঁছান। এ সময় পার্ক করার কথা বলে ছেলে ওমর ফারুক তার কাছ থেকে বাইক নেয়। কিন্তু সে বাইক পার্ক না করে দুই সহপাঠী রবিউল ও জুনায়েদকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের মুত্যুর খবর আসে।

ওমর ফারুকের বাবার ভাষায়, ‘সংবাদ পাই আমার পোলা নাকি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া দুর্ঘটনার শিকার হইছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়া ওরে কাছের একটা হাসপাতালে নিয়া যাই। সেইখান থেইকা পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে। সেইখানের ডাক্তাররা কয়, ‘আমার পোলা আর বাঁইচা নাই।’

জানা যায়, ওমর ফারুক তার দুই সহপাঠীকে মোটরসাইকেলে চড়িয়ে বের হয়ে আসিয়ান সিটি এলাকায় পৌঁছালে স্পিড বেকারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তারা ছিটকে পড়ে রাস্তায়।

এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা জুনায়েদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বাকি দুজনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মারা যায় রবিউল। ওমর ফারুককে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে রাত ৯টায় তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ব্যাপারে দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিহত তিনজনই কুরআনে হাফেজ। হাফেজী শেষ করায় তাদের শুক্রবার পাগড়ি দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘নিহত ওমর ফারুক তার বাবার কাছ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে দুই সহপাঠীসহ আশকোনা আসিয়ান সিটি এলাকায় ঘুরতে বের হয়। তারা অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। তাদের কারও মাথায়ই হেলমেট ছিল না।’

(ঢাকাটাইমস/২৪ফেব্রুয়ারি/এজে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজধানী এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :