মিলারের বিতর্কিত সেই ক্যাচ নিয়ে এবার মুখ খুললেন সূর্যকুমার যাদব

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৭

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ র রানে হারিয়ে ১৭ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তীরে এসে তরী ডুবেছে প্রোটিয়াদের। জয়ের জন্য শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ৬ বলে ১৬ রান। হার্দিক পান্ডিয়ার করা প্রথম বলটাকে উড়িয়ে মারেন মিলার, যা লং অফ বাউন্ডারি সীমানার কাছে দারুণভাবে লুফে নেন সূর্যকুমার। তাতে মিলারের বিদায়ের সঙ্গে জয়ের সমীকরণও কঠিন হয় প্রোটিয়াদের। গুরুত্বপূর্ণ এই ক্যাচ ঘিরে জন্ম নিয়েছে বিতর্কও।

ওই ক্যাচ নেওয়ার সময় সূর্যকুমার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সীমানার বাইরে চলে যান, তবে তার আগেই বল শূন্যে তুলে দিয়ে মাঠে ঢুকে ফের লুফে নেন ক্যাচটি। পরে রিপ্লে পরীক্ষা করে সেটিকে আউট বলে সিদ্ধান্ত দেন টিভি আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরো। কিন্তু সেই আউট দেওয়ার সময় সীমানা দড়ির দিক থেকে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল দেখানো হয়নি। সেটি দেখানো হলে আর কোনো সংশয় থাকত না বলে মনে করছেন ক্রিকেটভক্তদের অনেকেই। যদিও ভারতীয় দর্শক থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা ওই ক্যাচকে আজীবন মনে রাখবেন বলে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সূর্যকে।

ওই সময় মিলার আউট না হলে, সেটি ছয় বলে গণ্য হতো। ফলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হলেও হতে পারত। তাই ম্যাচের ফল নির্ধারণকারী মুহূর্ত নিয়ে কেন আম্পায়ার বাড়তি সময় নিলেন না, তা নিয়েই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। এ ছাড়া রিপ্লেতে সীমানা দড়িটিও কিছুটা সরে গেছে বলে দেখা যায়, কারণ ঘাসের ওপর বাউন্ডারি লাইনে সাদা দাগ স্পষ্ট। সেই দাগের ওপরই পা ছিল সূর্যকুমারের, যা সেই বিতর্ক আরও উসকে দিচ্ছে।

সেই দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে এবার সরাসরি কথা বলেছেন সূর্য। ক্যাচ নেওয়ার সময় তার অনুভূতি কেমন ছিল, সেটিই অকপটে বলেছেন এই ভারতীয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সূর্য জানিয়েছেন. সেই তার কাছে মনে হয়েছিল, বাউন্ডারি লাইনের উপর দিয়ে বহুল আকাঙ্ক্ষিত শিরোপা চলে যাচ্ছে এবং সেটি অন্য কোনো দলের হাতে গিয়ে পড়ছে।

সূর্য বলেন, ‘এখন বলা সহজ। কিন্তু সেই সময় মনে হচ্ছিল, একটা ট্রফি বাউন্ডারি পেরিয়ে ওপারে চলে যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, সেই মুহুর্তে আপনি মনে করবেন না বলটি বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করবে এবং ছক্কা হবে। যা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমি চেষ্টা করেছি। এবং সেই মুহুর্তে বাতাসও একটি বড় কারণ ছিল। আমাকে কিছুটা সাহায্য করেছিল।’

‘আমরা আমাদের ফিল্ডিং কোচের সঙ্গে অনেক অনুশীলন সেশন করেছি এবং এর মতো প্রচুর ক্যাচ নিয়েছি। তাই যখন এই ধরনের খেলার কথা আসে, তখন আমাদের মনের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূর্য জানান, ‘তার এক সময় মনে হয়েছে, তারা ম্যাচটি হারতে যাচ্ছে। কিন্তু দুই পেসার অশ্বদীপ সিং ও জাসপ্রিত বুমরাহ উইকেট ফেলে দিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন ও শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতিয়েছেন।’

এ বিষয়ে সূর্য বলেন, আমি মনে করি এটি একটি মজার খেলা। এটি দারুণ অনিশ্চিত খেলা এবং শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত খেলা শেষ হয় না। আমি মিথ্যা বলবো না। কিছু মুহূর্তে আমরা অনুভব করেছি যে, আমাদের জয় এবং তাদের জয়ের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। কিন্তু মনের দিক থেকে আপনি নিজেকে মনে করিয়ে দেন যে, আপনি ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর গত ২ বছর ২ মানে কতটা পরিশ্রম করেছিলেন। আমাদের হাতে বুমরাহের ২ ওভার এবং আশ্বদীপের ১ ওভার হাতে ছিল। তারা তাদের খেলায় পরিকল্পনার শীর্ষে ছিল। তাই আমার বিশ্বাস ছিল যে, এই ছেলেরা খেলাটি ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

(ঢাকাটাইমস/০১ জুলাই/এনবিডব্লিউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :