মিশরে যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলাকালে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১০ ফিলিস্তিনি

মিশরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই গাজায় আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরা’র। নিহতদের মধ্যে তিনজন মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে মিশরের শারম আল-শেখে পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। মিশরের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজের বরাতে আল-জাজিরা জানায়, আলোচনায় বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। মধ্যস্থতা করছে মিশর ও কাতার।
সোমবার গভীর রাতে প্রথম দফা আলোচনা শেষ হয়, আর মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা এমন এক সময় চলছে, যখন হামাসের ইসরায়েল আক্রমণ ও গাজা যুদ্ধের দুই বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। ফলে অনেক পর্যবেক্ষক এই আলোচনাকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
তবে যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে এখনও অনেক জটিলতা রয়ে গেছে। গত শুক্রবার থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ জনে। ওই দিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।
ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র শোশ বেদরোশিয়ান জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী এখনো ‘প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম’ চালাচ্ছে এবং গাজায় কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, “উভয় পক্ষই আমার প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর সঙ্গে একমত এবং আমি দ্রুত অগ্রগতি আশা করছি।” তার প্রশাসনের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, আলোচনার প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোতে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেছেন যে, হামাসের হাতে থাকা ৪৮ ইসরায়েলি বন্দির মধ্যে ২০ জন জীবিত এবং তাঁদের মুক্তির ঘোষণা এই সপ্তাহেই আসতে পারে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাস বন্দিদের মুক্তি দেবে বিনিময়ে ইসরায়েলও তাদের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দেবে। পাশাপাশি হামাস গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে এবং ইসরায়েল সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ হাজার ১৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৯ জন আহত হয়েছেন। দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ আশ্রয় ও খাদ্য সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
(ঢাকাটাইমস/৭ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































