তাড়াশে সাতটি রাস্তার কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৬
অ- অ+

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাতটি রাস্তার আংশিক কাজ করে অতিরিক্ত বিল নিয়ে চলে গেছেন ঠিকাদার। যার ফলে এসব রাস্তা চলাচলের অনুপযোগি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁচ্ছেছে। এদিকে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন ঠিকাদাররা।

এ নিয়ে কথা বললে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ঠিকাদাররা অভিযোগ করছেন উপজেলা প্রকৌশলী অতিরিক্ত পিসি (ঘুষ) দাবি করায়, তারা কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক ঠিকাদারদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, ঠিকাদাররা কার্যাদেশ পাওয়ার পর সামান্য কাজ করে অতিরিক্ত বিল দাবি করায়, তা না দেওয়ায় নানা রকম অভিযোগ তুলছেন।

তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের ট্রেন্ডার আহ্বান করা হলে, চাঁদপুর-নামা সিলোট রাস্তা নির্মাণে মেসার্স সার্চ ট্রেডিং দুই কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বিনোদপুর কুসুম্বী ভায়া বিনসাড়া রাস্তা সংস্কারে হাসনা কনস্ট্রাকশন এক কোটি ৪২ লাখ টাকা, নওগাঁ মাজার রোড টু রঙ মহল রাস্তা সংস্কারে মেসার্স সাব্বির কনস্ট্রাকশন ৬৬ লাখ ১১ হাজার টাকা, উলিপুর টু চকজয়কৃষ্ণপুর রাস্তা নির্মাণে মেসার্স রাইয়ান কনস্ট্রাকশন ৪৬ লাখ পাঁচ হাজার টাকা, সরাতলা মাধাইনগর ভায়া মাদারজানি রাস্তা নির্মাণে ওশান এন্টারপ্রাইজ পাঁচ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বিনোদপুর টু খড়খড়িয়া রাস্তা নির্মাণে ওশান এন্টারপ্রাইজ দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও হেদার খাল টু কুন্দাইল ভায়া ধাপতেতুলিয়া রাস্তা নির্মাণে নিশিত বসু এ্যান্ড মীম ডেভলোপমেন্ট নয় কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ পায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব রাস্তার কোনটা আংশিক আবার কোনটা অর্ধেক কাজ করে বিল নিয়ে ঠিকাদার লাপাত্তা। এসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে এলজিইডির পক্ষ থেকে কাজ সমাপ্ত করার তাগাদা দিয়ে চিঠি দিলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। যার ফলে চলাচলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজুর রহমান বলেন, বিনোদপুর টু বিনসাড়া ভায়া কুসুম্বী রাস্তা ঠিকাদার সংস্কারের জন্য কার্পেটিং তুলে আজ এক বছর যাবত লাপাত্তা রয়েছেন। জনসাধারণের চলাচল, পণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজের জন্য এ রাস্তা ব্যবহার সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো প্রকার কাজ হচ্ছে না।

চকজয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করে বলেন, মূল রাস্তা থেকে এ রাস্তাটি নিচু করা হয়েছে। ঠিকাদার খোয়া বিছিয়ে এক বছরের অধিক সময় হলো কাজ ফেলে চলে গেছেন। এখন খোয়া উঠে রাস্তা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিয়য়ে মেসার্স হাসনা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. খোকন সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক অতিরিক্ত পিসি (ঘুষ) দাবি করায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো তিনজন ঠিকাদার।

তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, কোনো কোনো ঠিকাদার রাজনৈতিক প্রভাবে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করায় সুবিধা না পেয়ে, কাজ না করে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন। এসব ঠিকাদার কে চিঠি দিয়ে বারবার তাগাদা দিলেও তারা কাজ শেষ করছেন না। এ কারণে রি ট্রেন্ডারেরও আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মাঝে রশি টানাটানির ফলে মাশুল দিচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থের। জনসাধারণের সুবিধার জন্য সরকার রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা করলেও তা আজ পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগে।

(ঢাকা টাইমস/০৪জানুয়ারি/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি
ডিবি উত্তরা বিভাগের ডিসি হলেন ইলিয়াস কবির
ঢাকার সড়কে এআই নজরদারিতে এক মাসে ৬৭২ মামলা, মোট জরিমানা প্রায় ৯ কোটি
হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা