গোপালপুরে ’৯৭ ব্যাচের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের কান্না-হাসির মহামিলন

উচ্ছ্বাস আর আবেগে কাঁদলেন জীবনের মাঝপথে এসে দাঁড়ানো মানুষগুলো। সাক্ষাতের শুরুতে কারও মুখে ভাষা নেই। কোনো সম্ভাষণ নেই। কেবলই একে-অপরের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা, তারপরই জড়িয়ে ধরা। আবেগের বাঁধ ছুটে কান্নার পর সমস্বর হাসি আর আনন্দের হুল্লোড়। এ যেন এক মহামিলন শত প্রাণের।
এভাবেই দীর্ঘদিন পর প্রিয় মুখগুলোকে কাছে পেয়ে শৈশব-কৈশোরের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা দিনগুলোতে ফিরে যান পরিপূর্ণ মানুষগুলো । সময় গড়ালেও ওদের স্মৃতির কথামালা যেন শেষ হয় না।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ১৯৯৭ ব্যাচের পুনর্মিলনীতে এমন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। আয়োজনের ক্ষেত্র ছিল গাজীপুরের চন্দ্রায় সোহাগ পল্লী রিসোর্ট।
এই পুনর্মিলনীতে সমবেত হওয়া সাবেক সহপাঠীদের অধিকাংশ জীবনের তাগিদে দূর-দূরান্তে অবস্থান করছেন। অনেকের দেখা হলো দীর্ঘ ২৮ বছর পর। ভার্চুয়াল জগতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মেজেঞ্জার ও হোয়াটস অ্যাপে কথা হলেও চোখের সামনে দেখা হলো এই প্রথম। আর তাই প্রিয় মুখগুলোকে ছুঁতে পারার আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কেউ।
আবেগঘন এই অনুষ্ঠানের শুরুটা হয় মূলত গত শুক্রবার ভোরে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে দুটি এবং ঢাকা থেকে একটি বাস সহপাঠীদের নিয়ে রওনা করে রিসোর্টের উদ্দেশে। তীব্র শীত আর কুয়াশার চাদরে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সবাই হাজির হয় রিসোর্টে। এরপর সেই আবেগঘন সাক্ষাৎ পর্ব।
সকালের নাশতা শেষে শুরু হয় নানামুখী অনুষ্ঠান পর্ব। ফুটবল, বাস্কেটবল, হাঁড়িভাঙা- নানা প্রতিযোগিতা। সঙ্গে পুরস্কার। বন্ধুর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন অন্য বন্ধু। ছিল বন্ধুদের অংশগ্রহণে সঙ্গীত আয়োজন। এর আগে সুস্বাদু খাবারের ভোজনপর্ব মিটিয়েছে দুপুরের রসনা।
দিনভর খেলা-আড্ডা, হাসি-তামাশা আর কৌশোরিক হল্লা শেষে রবিকর পাটে নামলে এবার বিদায়ের পালা। এই ক্ষণে আবার আবেগের বন্যা। সজল চোখে সবার কোলাকুলি।
এবারের আয়োজনে শামিল হন গোপালপুরের সুতি ভি এম উচ্চ বিদ্যালয়, সুতী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর হাতেম আলী বি এল উচ্চ বিদ্যালয়, রাধারানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বেলুয়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, ঝাওয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, পানকাতা উচ্চ বিদ্যালয়, হেমনগর উচ্চ বিদ্যালয়, সাজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালপুর আলিয়া মাদরাসাসহ গোপালপুর উপজেলার আরও বেশ কটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
বিশাল এই আয়োজন তদারকির দায়িত্বে ভূমিকা রাখেন বিশেষ করে শফিকুল ইসলাম স্বপন, শরিফুল ইসলাম শরিফ, জাহাঙ্গীর আলম, মির্জা মনিরুজ্জামান, মোরসালিন সৈকত, খাইরুল ইসলাম সোহেল, আশরাফুল ইসলাম পান্না, সোহেল রানা, সাইদুর রহমান, মমিনুল ইসলাম ও কল্পনা আক্তার প্রমুখ।
(ঢাকাটাইমস/১১জানুয়ারি/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































