অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

ওসমান হাদি হত্যার বিচারে বদ্ধপরিকর সরকার, জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩০
অ- অ+

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোঁড়েনি বলে দাবি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি সরকার এটিও পুনর্ব্যক্ত করছে যে, ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আগামী রবিবার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাবে সরকার।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তথ্য জানায় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোঁড়েনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সংলগ্ন এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেছে সরকার।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক পর্যবেক্ষক এরই মধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

সরকার দেশের সব নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, বলা হয় বিবৃতিতে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিদেশি অস্ত্রসহ মোহাম্মদপুরে শীর্ষ ছিনতাইকারী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার
বিশ্ব বাবা দিবস আজ: ভালোবাসা, দায়িত্ব ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা
ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া-চীন সফর শুরু আজ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা