কুমিল্লায় ৯৩৪ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫২
অ- অ+

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কুমিল্লার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বিশেষ করে বিগত স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতার কারণে ইতোমধ্যে জেলার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার ১১টি আসনের ১৭টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৯৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।

প্রশাসন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহকতায় ইতোমধ্যে ৫২৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি নতুন আরও ৮৪৮টি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার স্মৃতি এখনো টাটকা । বিশেষ করে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেঘনা উপজেলায় একাধিক সহিংস ঘটনায় দুজন নিহত এবং আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। একই বছর দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনাও ঘটে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবার মেঘনা ও দেবিদ্বার উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে দেবিদ্বার উপজেলায় ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার একমাত্র জামায়াত অধ্যুষিত এই আসনে ভোটের লড়াইকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার নুরুল আমিন জানান, শতভাগ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। অন্যদিকে জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে মুরাদনগর উপজেলায়-১৫৯টি। এই উপজেলার সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে উপজেলাজুড়েই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর টহল নদীবেষ্টিত এলাকায় মেঘনা উপজেলায় মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, নদীবেষ্টিত চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

(ঢাকা টাইমস/০৮ফেব্রুয়ারি/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সারাদেশে পশু কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি, সবচেয়ে বেশি ঢাকায়
বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রবিবার
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যে পদ পেলেন রবিউল ইসলাম নয়ন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা