রাজবাড়ী-২ আসনে হারুন-অর-রশিদের ১২ দফা ইশতেহার: স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বড় প্রতিশ্রুতি

রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিয়ে ১২ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। এতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিক সেবা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
রবিবার দুপুরে পাংশা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি নিজের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে হারুন-অর-রশিদ বলেন, রাজবাড়ী-২ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, সমস্যা ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এই নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করবেন এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
নির্বাচনি ইশতেহারে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পিতা-মাতার ভরণপোষণ সংক্রান্ত বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার অঙ্গীকার করা হয়। পাশাপাশি নারীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে বেকার যুবক ও নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনি এলাকার নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একটি জরুরি হটলাইন চালুর ঘোষণা দেয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। স্বাস্থ্য খাতে ইশতেহারে বলা হয়, সবার জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। হাসপাতালে ভর্তি জীবন-সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা এবং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
শিক্ষা খাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয় ইশতেহারে। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালু, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ও দলীয়করণ বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়।
এছাড়াও যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় মূল্যবোধের স্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে উন্নয়নে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিএনপির এই প্রার্থী।
অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলম, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়াসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































