কুমিল্লার ১১টি আসনের আটটিতে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন সংগ্রাম এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্কের পর উৎসব ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। সারাদেশের মতো কুমিল্লাতেও দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, একই সঙ্গে বিরাজ করছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
দীর্ঘ নয় ঘণ্টা ভোটগ্রহণ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয় ফল গণনা। একে একে আসতে থাকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল। সবশেষ আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফল অনুযায়ী জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের সব কয়টিতেই পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান।
প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা ১ আসনে প্রধান লড়াই হয় বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল এর মধ্যে। চূড়ান্ত ফলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুজ্জামান বাহলুল পান ৯০ হাজার ৪৯৯ ভোট। এ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯২টি এবং ‘না’ ভোট পড়ে ৫৫ হাজার ১৫৪টি। মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ৭৬ হাজার ২৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তালা প্রতীকের আবদুল মতিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩৮৫ ভোট।
এছাড়া, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮০ টি ভোট।
একক উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বার আসনে শুরু থেকেই ছিল উত্তাপ। এখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের মো. জসীম উদ্দিন ট্রাক প্রতীকে পান ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট। এই আসনে ভোট পড়েছে মোট ভোটারের ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। দেবিদ্বার আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন এবং ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৬টি।
কুমিল্লা-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাজী জসীম উদ্দিন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মোঃ মোবারক হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৭ ভোট।
কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র মনিরুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২২৬ ভোট।
চান্দিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা ৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন কলস প্রতীকে ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রেদোয়ান আহমেদ পান ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। এখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৪টি এবং ‘না’ ভোট পড়ে ৩৯ হাজার ৩৫৮টি।
বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা ৮ আসনে বিএনপির জাকারিয়া তাহের সুমন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল আলম হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৪৫ হাজার ৯১ ভোট। এ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৩ জন।
লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা ৯ আসনে বিএনপির মো. আবুল কালাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী সৈয়দ একেএম সরওয়ার সিদ্দিকী পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৬১ ভোট। এই আসনে মোট ভোটারের ৬৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোট দেন।
নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা ১০ আসনে বিএনপির মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাতে ইসলামের প্রার্থী মোঃ ইয়াসিন আরাফাত পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ১৫০ ভোট। এখানে মোট ভোট পড়েছে ৫৫ দশমিক ২২ শতাংশ।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন জামায়াত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৮ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৭০ হাজার ২৩৮ জন, নারী ভোটার ২৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩০ জন। এবারের নির্বাচনে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১ হাজার ৪৯১টি। এছাড়া পোস্টাল ভোটার ছিলেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন।
ফলাফল ঘোষণা শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানান, নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সব কয়টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ইতোমধ্যে হাতে এসেছে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবং নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে হয়েছে। নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
(ঢাকা টাইমস/১৩ ফেব্রুয়ারি/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































