আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরীক্ষিত হাত
নির্বাচন-পূর্ব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, অস্থির সময়ের ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর দৃঢ় কমান্ড

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে দ্রুত সিদ্ধান্ত—এই দুই দিকেই বিগত সময়ে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্ব ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন-পূর্ব মুহূর্তে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘিরে আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক দফায় সংঘর্ষের সময় কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেতৃত্ব দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় টি-শার্ট ও ট্রাইজার পড়ে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী লাঠি হাতে তেড়ে যান আন্দোলনকারীদের দিকে। দেন কড়া নির্দেশনা। অল্পসময়ে নিয়ন্ত্রণে আসে পুরো পরিস্থিতি। ঘটনার সময়ের একাধিক ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি।
ঘটনার দিন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী মাঠে নেমে পুলিশ সদস্যদের সমন্বয় করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, সে সময় গোয়েন্দা তথ্য ছিল—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হতে পারতো। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুল ইসলামের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. ছারওয়ারকে আটকের বিষয়টি সামনে এলে ডিএমপি কমিশনার তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি কার্যালয়ে যান। ছারওয়ারকে আটকের বিষয়টা আগাম কেন তাকে অবগত করা হয়নি তা জানতে চান। বুঝে যান নির্বাচন বানচালে একটা পক্ষ ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি জোরালো ভাবে সরকারের বিভিন্ন পক্ষকে অবগত করেন। এতে ষড়যন্ত্রকারীরা কোণঠাসা হয়ে যায়। এই ষড়যন্ত্রে এসবির বর্তমান প্রধান ও ডিবিপ্রধান সরাসরি জড়িত ছিলেন। তারাই মূলত জামায়াতের পক্ষ নিয়েছিলেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, কমিশনার সাজ্জাত আলী ঘটনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন এবং যেকোনো ধরনের অসদাচরণ বা অনিয়ম রুখতে জোরালো অবস্থান নেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুধু এই দু'টি ঘটনা নয়, সচিবালয় ঘেরাও, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও, শাহবাগ অবরোধসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল কর্মসূচির সময়ও কমিশনারের সরাসরি তদারকি ছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার কৌশল গ্রহণ করেন।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সেই সময়ও সাজ্জাত আলী সহকর্মীদের নিয়ে দিনরাত কাজ করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে উদ্যোগ নেন। তাছাড়া ধারাবাহিক ভাবে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী তৎপরতা জোরদার করা হয়; গ্রেপ্তার করা হয় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের।
ডিএমপি কমিশনার হিসেবে শেখ মো. সাজ্জাত আলীর এই ধারাবাহিক তৎপরতা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।একই মন্তব্য বিদেশী সাংবাদিক নাজমুস সাকিবের। নিজের ফেসবুক পোস্টেও ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর ব্যাপক প্রংশসা করেছেন তিনি। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, নির্বাচন-পূর্ব উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে লাঠি হাতে মাঠে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কমিশনার যে সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার তাঁর এই পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাজ্জাত আলীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তখন তিনি ডিআইজি ছিলেন।
মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে আওয়ামী লীগ সরকার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। চাকরি হারানোর পর প্রায় এক দশক তিনি নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাঁর সহকর্মীরা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তোলার চেয়ে পেশাগত সততাকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন; ঢাকায় নিজের বাড়ি বা উল্লেখযোগ্য ব্যাংক সঞ্চয় না থাকলেও নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করেননি—এ কারণেই তাঁকে বাহিনীতে একজন নীতিবান কর্মকর্তা হিসেবে দেখা হয়।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ডিএমপি কমিশনার
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থেকেই সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী।
তারেক রহমানের আগমন
সেদিন পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সংবর্ধনা স্টেজের পেছনে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে ডিএমপি। ওই কন্ট্রোল রুমে সারাদিন সশরীরে উপস্থিত থেকে মোবাইল ফোন ও ওয়াকিটকির মাধ্যমে মাঠে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার। পাশাপাশি তিনি নিজেই সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করেন।
জানা যায়, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে ডিএমপিতে সাজ্জাত আলী এক বিশেষ সভা ডাকেন। ডিএমপির ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই সভায় তারেক রহমানের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবনে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং যার ফলশ্রুতিতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে সমস্ত কর্মসূচি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তার সকল কর্মসূচিতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে ডিএমপি কমিশনারের অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখেন।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও চিকিৎসাকালীন সময়ে নিরাপত্তা
এছাড়া রাজধানীতে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতিতে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ডিএমপি কমিশনারের ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া খালেদা জিয়া অসুস্থকালীন সময়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীনকালে হাসপাতাল এলাকায় সারাদেশ থেকে ছুটে আসা নেতাকর্মীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি ঘিরে কোনো সেখানকার নিরাপত্তা ঘিরে সশরীরে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































