‘অপরাধের অভয়ারণ্য’ ভাঙতে পুলিশের কঠোর অভিযানের দাবি মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় বাড়ির মালিকরা বলছেন, অন্য এলাকায় গেলে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন। এমন কি মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা পরিচয় শুনলে মানুষ ভিন্ন নজরে তাকায়। ফলে মোহাম্মদপুরের এমন কুখ্যাতি দূরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের আহবান জানান।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে 'বসিলা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প' উদ্বোধন ও 'ওপেন হাউজ ডে'তে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন।
৩৪ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম খান রাজেশ বলেন, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার, বেড়িবাঁধ ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা অপরাধ করে গাঁ ঢাকা দিতে পারে। এই সব অভয়ারণ্যগুলো বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রতি একটি অনুরোধ থাকবে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বাড়াতে কেউ ইনভেস্ট করছে কি না। বিশেষ করে
সরকারের ভাবমূর্তি খন্ড করতে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের অনেক নেতা, কাউন্সিলর, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা ভারতে অবস্থান করছেন। একটু বলি ভাইকে একটু বলি। এই তারা কি এখানে কোন ইনভেস্ট করতেছে কিনা, এলাকায় অস্থিতিশীল করতে, আপনারা গোয়েন্দা নজরদারি রাখবেন।
৩৩ ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম অপু বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভুল তথ্য প্রকাশ হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেকেই নাম দিয়ে দেয়। অনেক সময় অপরাধী ধরিয়ে দেওয়া উল্টো আমাদের অপরাধীদের আশ্রয় দাতা হিসেবে নাম দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানাই।
স্থানীয় বাড়ির মালিক রাশেদ খান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা খানা অটোরিকশা গ্যারেজ, আর ভাঙ্গারি দোকান হচ্ছে চুরির মাল বিক্রির স্থান। এই ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীরা চুরির জন্য দাদন দেয়। আমাদের বাসা বাড়িতে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। এই সকল স্থানে জোড়ালো অভিযান চালানোর অনুরোধ জানানো হয়।
মোহাম্মদপুর থানার বসিলা বড় মসজিদের খতিব আবু তাহের, রাতের অন্ধকারে অটোরিকশা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। কিছু অসাধু চালক রাতে ছিনতাইয়ে জড়িত থাকলেও দিনে স্বাভাবিকভাবে অটোরিকশা চালিয়ে নিজেদের আড়াল করে রাখছে। এ কারণে রাতের বেলায় অটোরিকশাগুলোর ওপর নজরদারি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়ে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকা কিছু দোকান অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব দোকান রাত ১২টার মধ্যে বন্ধ করার দাবি তোলা হয়।
মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এনায়েতুল হাফিজ অভিযোগ করেন, এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িতদের তালিকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত জামিন না দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এই রাজনীতিবিদ।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, মোহাম্মদপুরের বাইরে এ এলাকার নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, যা বাসিন্দাদের জন্য বিব্রতকর। তারা মনে করেন, শুধু পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না—জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি মহল্লায় সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশের কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়। অতীতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম থাকলেও তা এখন কার্যকর নেই, যা পুনরায় চালুর দাবি ওঠে।
এছাড়া ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া অস্ত্র এখনও সন্ত্রাসীদের কাছে রয়েছে বলে অভিযোগ করে সেগুলো দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান এক বক্তা।
থানা বিএনপির আহবায়ক শুক্কুর মাহমুদ কোম্পানি বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও ভূমিদখলের মতো অপরাধের পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর ভূমিকা রয়েছে। তারাই এ সকল কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। শুধু পুলিশের ওপর দায় দিলেই হবে না। আমরা এখন ক্ষমতায় আছি, তাই আমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। যেখানে আপনারা বাঁধা পাবেন সেখানে পুলিশের সহযোগিতা চাইবেন। মোহাম্মদপুরের এমন দুর্নাম ছিলো না। সবাই দ্রুত ধনী হতে চান। এসময়ে কয়েকজন বিএনপি নেতা তাকে ধামানোর চেষ্টা করেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































