পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ, রূপপুরের চুল্লিতে আজ ইউরেনিয়াম স্থাপন

বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম স্থাপন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।
প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা চ্যালেঞ্জ—মহামারি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা—পেরিয়ে প্রকল্পটির অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের প্রযুক্তিনির্ভর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযোজিত হয়েছে স্বয়ংক্রিয় কোর ক্যাচারসহ উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ও জলোচ্ছ্বাসেও টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে কেন্দ্রটি ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত সচল থাকতে পারে।
রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ফুয়েল বান্ডেল, যার প্রতিটিতে রয়েছে ১৫টি ইউরেনিয়াম রড। ইতোমধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি সংরক্ষণে রাখা হবে।
চুল্লিতে ইউরেনিয়াম স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধাপে ধাপে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরু হবে। উৎপাদিত তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ফুয়েল লোডিং ও প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম মিলিয়ে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এর আগে সকল নন-নিউক্লিয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই এ ধাপের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট নাগাদ জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে আগামী বছর পর্যন্ত।
(ঢাকাটাইমস/২৮ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































