সবুজ বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৮০৯.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ০৭ মে ২০২৬, ১১:৫৩
অ- অ+

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট, যা মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫ দশমিক ০১ শতাংশ।

এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য প্রকল্প দেশকে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।

বিপিডিবি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫৭২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার স্থাপন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি সরকারি এবং ২০টি বেসরকারি খাতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মোট সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬২ মেগাওয়াট।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। শিল্পখাতে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও অফ-গ্রিড নবায়নযোগ্য শক্তি যুক্ত করলে এই সক্ষমতা দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াটে।

চাহিদার তুলনায় বাস্তব উৎপাদন ওঠানামা করছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গড় উৎপাদন ছিল প্রায় ১০ হাজার ৭৫৫ মেগাওয়াট, যেখানে গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা ১৮ হাজার থেকে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়া অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস হিসেবে ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং সামান্য পরিমাণ বায়োগ্যাস ও বায়োমাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে মোট ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, সরকারি ভবন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপন এই পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। তারা আরও মনে করেন, অব্যবহৃত জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক তুলনায় দেখা যায়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত শীর্ষে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশও ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে, তবে লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

(ঢাকাটাইমস/৭ মে/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মায়ামির জয়ে দুই গোল করে লিগস কাপে রেকর্ড গড়লেন মেসি
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ ৮১৮ জনের
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দুই-তিন লাগবে: জ্বালানি মন্ত্রী
মৌলভীবাজারের বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমুর বিরল ডিমের দেখা মিলল, কৌতূহলী দর্শনার্থীদের ভিড়
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা