চাঁদপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ১১ পরিবারের ২০ বসতঘর

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১ পরিবারের ২০টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই আগুনে কমপক্ষে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। স্থানীয়রা জানান, উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামের বেচার বাপের বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া আগুনে ভিস্মীভূত হয় ২০টি বসতঘর।
ভর হারানো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন দেলোয়ার ও তার প্রতিবেশী মোকবুল হোসেন, নজরুল ইসলাম তুষার, আইয়ুব আলী, আবুল কাশেম, আবুল খায়ের, ইমরান হোসেন, আবুল হাসেম, মামুন ও তাদের স্বজনরা।
ক্ষতিগ্রস্ত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘দুপুরে রান্নাবান্না শেষে গোসল করে আসার পর হঠাৎ আগুন দেখতে পাই। মুহূর্তেই লেলিহান শিখা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের ১১ পরিবারের সব কটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।’
ইমরান হোসেন বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেনের ঘর থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের ঘরের কিছুই অবশিষ্ট নেই। সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আগুনে পুরো বাড়ির প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
আগুনে আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডে উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামের ২০টি বসতঘর পুরোপুরি পুড়ে গেছে।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর কোনো কিছু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
(ঢাকাটাইমস/১৩মে/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































