আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন, ‘দোষীদের ছাড় নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস:
  প্রকাশিত : ২৭ মে ২০২৬, ১৭:১২
অ- অ+

ঢাকার মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

ডিজি বলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, “এই সেক্টরে ছয়জন শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। এখানে দোষী ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” পরিদর্শন শেষে ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের পোস্ট–লেবার ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক ও ১১ মা ছিলেন। এর মধ্যে পাঁচ মায়ের শিশু পাঁচতলার এনআইসিইউতে ভর্তি ছিল। সরেজমিনে গিয়ে তাঁদের কাছে মনে হয়েছে, পোস্ট–অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে অসুস্থ নবজাতকদের এনআইসিইউতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় একটি দুর্বলতা রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এই ট্রানজিশন পর্যায়ে একটি দুর্বলতম দিক আছে। যদি ওই সময় চিকিৎসকরা সরাসরি এসে সেবা দিতেন বা দ্রুত নবজাতকদের নেওয়া যেত, তাহলে হয়তো সেবাটি আরও কার্যকর হতে পারত।”

হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা নার্স ও সেবিকারা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি। তবে ওই সময় কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “ভোরের সময়টিতে পোস্ট–লেবার ওয়ার্ডে থাকা শিশুদের এবং ওপরের এনআইসিইউতে থাকা শিশুদের সেবার মধ্যে কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না, আমরা কঠোরভাবে সেটি খতিয়ে দেখব।”

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাবে। প্রয়োজনে কমিটিতে কারিগরি বিশেষজ্ঞ, বিদ্যুৎ ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ যুক্ত করা হবে।

এ ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে হাসপাতালের ওই কক্ষের কারিগরি দিক ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানান তিনি।

নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা ছয়জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন। এর বাইরে কোনো অনথিভুক্ত মৃত্যু থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সার্কভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের ঘোষণা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস-চ্যান্সেলরের
সাভার মডেল থানার নতুন ওসিকে ঘিরে বিতর্ক, অতীত নিয়ে নানা অভিযোগ
‘নির্লজ্জ-বেহায়া’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য সোহেল তাজের
জুলাই অভ্যুত্থান থেকে ডিজিটাল গণতন্ত্র: দুই বছরের মূল্যায়ন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা