ফুটবল বিশ্বকাপের লড়াই শুরু আজ, চোখ এখন ৪৮ দেশের মহাযুদ্ধে

চার বছর অপেক্ষার পর আবারও শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। যুদ্ধ-বিগ্রহ, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার আবহে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি এখন একটাই মঞ্চে- বিশ্বকাপ ফুটবল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আজ পর্দা উঠছে ২৩তম বিশ্বকাপের।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে তিন দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ফাইনালসহ মোট ১০৪টি ম্যাচের ৭৮টিই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে ১১টিও যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় এবারের বিশ্বকাপের মূল কেন্দ্রবিন্দু দেশটিই।
মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের আগে থাকবে প্রায় ৯০ মিনিটের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজন, যেখানে মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নানা কারণে আলোচনায় এসেছে আয়োজক দেশগুলো। মেক্সিকোতে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনে নেমেছে। তাদের দাবি, সমস্যার সমাধান না হলে বিশ্বকাপ আয়োজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসানীতির কারণে অনেক দর্শক, সাংবাদিক ও কর্মকর্তার বিশ্বকাপ যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্বকাপের মাঠে ফুটবলের লড়াই হলেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা জাতিগত বিভাজন ভুলে কোটি মানুষ এক সুতোয় গাঁথা হয় ফুটবলের মাধ্যমে। বিশ্বকাপ তাই শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা।
এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে তারকাদের দিকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেবেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ ফুটবল মেধা নিয়ে মাঠে নামবেন তিনি। অন্যদিকে পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগ।
ব্রাজিলের নেইমার ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে। ফ্রান্সের কাইলিয়ান এমবাপ্পে আবারও নিজের গতিময় ফুটবল দিয়ে বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে আসা নরওয়ের আরলিং ব্রাউট হালান্ড এবং স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল-এর দিকেও থাকবে বিশেষ নজর।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির ছায়াও পড়েছে টুর্নামেন্টে। যোগ্যতা অর্জন করে বিশ্বকাপে এসেছে ইরান। আয়োজক দেশ হিসেবে খেলছে যুক্তরাষ্ট্রও। দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের মনোযোগ এখন মাঠের লড়াইয়ে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঘটেছে নানা আলোচিত ঘটনা। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ডোপিং কেলেঙ্কারিতে ফুটবল কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারে নেমে এসেছিল বড় ধাক্কা। একই আসরে আত্মঘাতী গোলের পর দেশে ফিরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন কলম্বিয়ার ফুটবলার আন্দ্রেস এসকোবার।
নতুন আঙ্গিকে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপ কত নাটকীয়তা, বিস্ময় ও ইতিহাসের জন্ম দেয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ফুটবলের এই মহাযুদ্ধ। কোটি মানুষের প্রত্যাশা, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে বিশ্ব আবারও ফিরে যাবে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায়।
(ঢাকাটাইমস/১১ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































