১৯ বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা আজ

দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আজ প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গঠিত সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি দেশের ১৫তম ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় বাজেট দিচ্ছেন। এর আগে আরও ১৪ জন জাতির সামনে বাজেট উপস্থাপন করেছেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবারই প্রথম বাজেট পেশ করবেন। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট হলেও সামগ্রিকভাবে বিএনপি সরকারের ১৩তম জাতীয় বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয় প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হবে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা খাতে এই অর্থ ব্যয় হবে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে এবারের বাজেটে। করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংকে ব্যবসায়িক হিসাব খুলতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপের প্রস্তাবও থাকবে।
এছাড়া ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অভিন্ন টার্নওভার কর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ছাত্র এবং সরকারি গেজেট দ্বারা অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তি ছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে সবার জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। করযোগ্য আয় না থাকলেও টিআইএনধারীদের বার্ষিক রিটার্ন জমা দিতে হবে, অন্যথায় জরিমানার বিধান থাকবে।
কর আদায়ের আওতা বাড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যভাণ্ডারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে কর কর্মকর্তারা ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
অন্যদিকে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করতে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু সুবিধাও রাখা হচ্ছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থায় বার্ষিক অডিটের পরিবর্তে তিন বছর পরপর অডিটের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি অফডক ও আইসিডি খাতে বিদেশি মালিকানার সীমা শিথিল করা হচ্ছে এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সবুজ পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন ফি দুই লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং আমদানি শুল্ক হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে।
এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তাও রয়েছে। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, মাছ, গবাদিপশু ও বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। এসব পণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর ছাড়ের প্রস্তাবও থাকছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে হার্টের স্টেন্ট, চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানো বা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রযুক্তি খাতে মোবাইল সিমের ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহার, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ও সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল পণ্যের ওপরও শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, করের হার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
(ঢাকাটাইমস/১১ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































