বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বস্তির বার্তা, কমছে ৬০ নিত্যপণ্যের দাম

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের বোঝা বহন করা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। চাল-ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, শিশুখাদ্য, ওষুধের কাঁচামাল, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে কর ছাড় ও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রাখা হচ্ছে এবারের বাজেটে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে বিভিন্ন পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, মাছ, মাংস, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট ও কর সুবিধা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের আশা, এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ বাড়বে।
শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানির ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে ক্যানসারসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮টি কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসারের ওষুধ তৈরির কয়েকটি কাঁচামালে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
চিকিৎসাসামগ্রীর মধ্যে হার্টের স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। কিডনি রোগীদের ব্যবহৃত ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক, ভ্যাট ও আগাম কর প্রত্যাহারের ফলে চিকিৎসা ব্যয়ও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। এতে এসব পণ্যের বাজারমূল্য কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন আমদানির শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে আগাম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।
গৃহস্থালি পণ্যের মধ্যে দেশে উৎপাদিত ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিং মেশিন, গিজার, ডিশওয়াশার, ব্লেন্ডার ও জুসারের মতো পণ্যের কর সুবিধার মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাব আসছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক এবং চার্জিং স্টেশন আমদানির ওপর উৎসে কর শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রসাধনী পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য কমানোর ফলে লিপস্টিক, লোশন, ফেসক্রিম ও ফেসওয়াশের মতো পণ্যের দামও কমতে পারে।
এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানো এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর অব্যাহতির প্রস্তাবও থাকছে।
তবে সব খাতে স্বস্তি মিলছে না। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে সিগারেট, মদ ও রডের ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে, যার ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় দেওয়ার কৌশল নিয়েছে সরকার। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/১১ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































