টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনসার সদস্যদের মানবিক তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া শিশু উদ্ধার, পরিবারের নিকট হস্তান্তর

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের মানবিকতা, সতর্কতা ও দায়িত্বশীল তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করে তার পরিবারের নিকট নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে। সময়োপযোগী এ উদ্যোগে একটি উৎকণ্ঠাময় পরিস্থিতির সফল সমাপ্তি ঘটে এবং স্বস্তি ফিরে পায় শিশুটির পরিবার।
সোমবার (২২ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় লিফট-০১ সংলগ্ন জরুরি বিভাগ এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে কান্নারত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিষয়টি টহলরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা দ্রুত শিশুটির কাছে গিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তার পরিচয় ও স্বজনদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুটি তার মা ও নানির সঙ্গে হাসপাতালে এসেছিল। হাসপাতালের ব্যস্ত পরিবেশ ও ভিড়ের মধ্যে অসাবধানতাবশত তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্বজনদের খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে শিশুটি।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে টহলরত পিসি মোঃ মুনসুর আলী এবং এপিসি মোঃ মাসুদ রানার নেতৃত্বে আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে নেন। একইসঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে শিশুটির অভিভাবকদের সন্ধান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে সকাল আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে শিশুটির মা ও নানির সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় পর্যন্ত শিশুটিকে সর্বোচ্চ যত্ন, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে আনসার সদস্যদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। উদ্ধারকৃত শিশুটির নাম মোঃ হাঞ্জালা (০৩)। তার পিতা মোঃ শাহিন এবং মাতা কল্পনা আক্তার। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার বালীআটা গ্রামে।
পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে শিশুটিকে তার মা ও নানির নিকট নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং আনসার সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, আনসার সদস্যদের দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপের কারণেই শিশুটিকে অল্প সময়ের মধ্যে নিরাপদে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, মানবিক সংকট মোকাবিলা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। হারিয়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এ মানবিক উদ্যোগ বাহিনীর জনবান্ধব কার্যক্রম, দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
(ঢাকাটাইমস/২২ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































