বজ্রপাতে ৬ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু

তীব্র ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আকস্মিক বজ্রপাতে ঢাকা, নরসিংদী ও মানিকগঞ্জসহ দেশের ছয়টি জেলায় সময় ৩ মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও ৬ কৃষকসহ মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা রাতের মধ্যে পৃথক পৃথক স্থানে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই মাঠে ও হাওরে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর মনোহরদীতে মগবিরের নামাজের আগে ওজু করার সময় বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়। রবিবার মাগরিবের আজানের মুহূর্তে উপজেলার পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলো—জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তাদের সবার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায়। তারা ওই মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করত। শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ জানান, চারজনকে হাসপাতালে আনা হলে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় ফসলি জমিতে কাজ করার সময় আচমকা বজ্রপাতে তিন শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিকালে উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—দ্বীন ইসলাম (৪৫) ও দুলাল (৬০)। অপর নিহত যুবকের (আনুমানিক ৩৫) পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান হোসেন জানান, বিকালে বৃষ্টির মধ্যে দ্রুত কাজ সারার সময় তাদের ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেকজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—কাঞ্চননগর গ্রামের কবির হোসেন (৩০) এবং শহিদুল ইসলাম (২৫)।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, বিকালে বৃষ্টির মধ্যে কবির ও শহিদুল লাঙ্গল দিয়ে জমিতে হাল চাষ করতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরের জামাল ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মুসা ফকির (৬০) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের উত্তর চরবওলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাহিদুজ্জামান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বড়গাও গ্রামে দুপুর আড়াইটার দিকে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির সময় মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় হাওরে বজ্রপাতে বাবুল সরকার (৪৫) নামে এক নৌকার মাঝির মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে নৌকাযোগে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাত শুরু হলে যাত্রীরা নৌকার পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন। তবে হাল ধরে ওপরে থাকায় মাঝির ওপর বজ্রপাত পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
নিকলী ইউএনও রেহানা মজুমদার মুক্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































