বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণে রুল, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ ও স্থানান্তরের কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গণকুকুর টিকাদান কর্মসূচি (এমডিভি) এবং কুকুর ধরা, বন্ধ্যাকরণ, টিকাদান ও পুনরায় অবমুক্তকরণ কর্মসূচির (কনভির) সম্ভাব্যতা যাচাই করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২২ জুন) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তৌফিকুল ইসলাম খান।
একই সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যারিস্টার তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, কমিউনিটি কুকুর ব্যবস্থাপনায় ‘ধরা-বন্ধ্যাকরণ-টিকাদান-অবমুক্তকরণ’ এবং ‘গণকুকুর টিকাদান’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ ও স্থানান্তরের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করা হয়েছে।
রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের পরিপত্র এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ধারা ৭(১) ও ১৪-এর পরিপন্থীভাবে পরিচালিত বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ, স্থানান্তর ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম কেন বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।
একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গণকুকুর টিকাদান এবং কুকুর ধরা, বন্ধ্যাকরণ, টিকাদান ও পুনরায় অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাই করে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনটি দায়ের করেন এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপান্বিতা হৃদি। রিটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন জনপরিসর থেকে বেওয়ারিশ কমিউনিটি কুকুর অপসারণ, স্থানান্তর ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
আদালতের এ নির্দেশনার ফলে বেওয়ারিশ কুকুর ব্যবস্থাপনায় মানবিক, বৈজ্ঞানিক ও আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(ঢাকাটাইমস/২২ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































