পদোন্নতির পরও পদায়ন পাননি অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম মল্লিক

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পাওয়ার প্রায় এক মাস পরও কোনো ইউনিটে পদায়ন পাননি রেজাউল করিম মল্লিক। একই দিনে পদোন্নতি পাওয়া অন্য চার অতিরিক্ত আইজিপিকে পদায়ন করা হলেও তাঁকে এখনো কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
গত ৪ জুন ডিআইজি থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হন রেজাউল করিম মল্লিক। একই দিনে পুলিশের আরও চার কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। পরে রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই চার কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করলেও বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেজাউল করিম মল্লিককে কোনো ইউনিটে পদায়ন করা হয়নি।
জানা গেছে, চলতি মাসেই অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এ অবস্থায় পদোন্নতির পরও পদায়ন না হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে তিনি এখনো পদায়ন পাননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রেজাউল করিম মল্লিক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধানের দায়িত্ব পান। তাঁর দায়িত্বকালে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ধরনের অভিযান দেশের ইতিহাসে বিরল বলেও অনেকে উল্লেখ করেছেন।
এসব অভিযানের পর রেজাউল করিম মল্লিক বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি। নিষিদ্ধ সংগঠনের দেওয়া একাধিক হুমকি এবং নিরাপত্তা-শঙ্কার কারণে তাঁর দুই সন্তান শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি ফেসবুক পেজ থেকে রেজাউল করিম মল্লিকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে গ্রেপ্তার, মামলা ও নির্যাতনের প্রথম সারির লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন তিনি। তাঁদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক দেশব্যাপী অভিযানে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ একনম্বর হয়ে পুলিশি কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
রেজাউল করিম মল্লিকের ঘনিষ্ঠদের দাবি, ডিবি প্রধান ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের কারণে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী অনেক কর্মকর্তা অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁদের কেউ কেউ তখন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এমনকি অর্থের বিনিময়ে পদায়নের অভিযোগও রয়েছে। যা নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ায় তাঁদেরকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে।
আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ডিবিপ্রধানের দায়িত্ব থেকে রেজাউল করিম মল্লিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর তাঁকে কৌশলে ওই পদ থেকে সরান। বিষয়টি সে সময়ও আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসপি পদে থাকার পর দীর্ঘদিন তাঁকে আর পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। তাঁকে পুলিশের কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে রাখা হয়েছিল এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে বিবেচনা করে কোণঠাসা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারপ্রধান ও দায়িত্বশীলদের তাঁর বিষয়টি নজরে এলে তিনি যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন। একই সঙ্গে যাঁরা তাঁর পদায়নে বাধা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, তখন ঢাকা রেঞ্জ ও ডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা রেজাউল করিম মল্লিকের অবসর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের তৎপরতার কারণে বড় ধরনের সহিংস বা ধ্বংসাত্মক ঘটনা দৃশ্যমানভাবে ঘটতে পারেনি। এ ধরনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে বলেও তাদের মত।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































