বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, পরীক্ষা শুরুর আগের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তখন সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুকূল পরিস্থিতির তথ্য পাওয়ায় পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আজ জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি। তিনি জানতে চান, এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে এবং ৬৪ জেলায় একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ধাপে ধাপে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, পরদিন আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র জলাবদ্ধ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের বিকল্প ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেসব পরীক্ষার্থী ভিজে গিয়েছিল, তাদের পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু হলেও অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, সারা দেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কুমিল্লার ওই কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হয়নি বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি থাকার বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই দুই প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ায় এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের নিয়োগ দেওয়া মডারেটরদের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া আছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং পুরো পরীক্ষা চলাকালীন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































