শিল্পখাতে নিরাপত্তা জোরদারে নিজস্ব সদরদপ্তর ও জনবল বাড়ানোর দাবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:১১
অ- অ+

দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পখাতে নিরাপত্তা জোরদার এবং শ্রম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় নিজস্ব স্থায়ী সদরদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও জনবল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। বাহিনীটির দাবি, দায়িত্ব ও কার্যপরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এখনো ভাড়া করা ভবন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রমেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

এসব বিষয় নিয়ে সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, ‘দেশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পখাতে কার্যকর নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এ দুটি বিষয়ই অপরিহার্য।’

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশেষায়িত বাহিনীটি রাজধানীর উত্তরায় ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও এ সময়ের মধ্যে তাদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

জসীম উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নিজস্ব কোনো সদরদপ্তর নেই। বাহিনীর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে এবং বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে এখন স্থায়ী সদরদপ্তর অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, জনবল সংকটও বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফলে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রম-সংক্রান্ত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, আমাদের অনুমোদিত জনবল ৪ হাজার ২০০ জন। অথচ কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৪৭০ জন। দেশজুড়ে শিল্প এলাকার দ্রুত সম্প্রসারণের কথা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর শিল্প নিরাপত্তা ও শ্রম আইন প্রয়োগের জন্য আরও জনবল প্রয়োজন।

জসীম উদ্দিন জানান, কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পৃথক পুলিশ লাইনস্ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। সেজন্য ইতোমধ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং স্থাপনার নকশা তৈরি করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

শিল্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উৎপাদনবান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প পুলিশের ৯টি ইউনিট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে কাজ করছে ৪টি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট।

কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের শিল্পখাত ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার তৈরি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন।

তাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের নেতৃত্বে এ খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হচ্ছে। ফলে শিল্প পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত করা সময়ের দাবি।

জসীম উদ্দিন বলেন, অবকাঠামো জোরদার ও জনবল বাড়ানো হলে শ্রম বিরোধ মোকাবিলায় বাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, শিল্প সম্পদ রক্ষা এবং শ্রমিক ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মেসিকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব: টুখেল
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন
পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু
যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা