পে স্কেল নিয়ে সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫১
অ- অ+

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কাজ শেষ হলে দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে এবং বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আর বেশি সময় লাগবে না।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, কমিটির সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হলেও নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি।

বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ চলছে। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না।

তিনি আরও বলেন, বেতনকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।

অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ মূলত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চেয়েছে এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। তবে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সংস্থাটি কোনো শর্ত দেয়নি।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী লাখ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ব্যয়ের পাশাপাশি নতুন কাঠামো কার্যকর করতে অতিরিক্ত প্রায় লাখ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রথমে তিন অর্থবছরে এবং পরে দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের প্রস্তাব বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার সুপারিশে একমত হয়েছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন একই বেতনকাঠামো বহাল থাকলেও মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের বড় একটি অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন সংশ্লিষ্ট সুবিধা বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মা হলেন অভিনেত্রী কারিশমা
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য শুরু হলো ‘গেট দ্য চ্যালেঞ্জ’
হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হজ টিকিটের মূল্য কমে যত হলো
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা