এসএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার: মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৬
অ- অ+

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা মূল্যায়ন করে কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরিতে নতুন কর্মপরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষামন্ত্রী এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা মূল্যায়ন করে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে আগ্রহী, তাদের নিজ এলাকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কারও ভালো ব্যবসায়িক ধারণা থাকলে তাকে ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিল দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, জাপানি, কোরীয়, চীনা কিংবা ইউরোপের কোনো দেশের ভাষা তিন থেকে ছয় মাসে শিখতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শেষ করেও যেখানে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে ভাষা শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত আত্মনির্ভরশীল হওয়া সম্ভব।

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক এক বছর অপেক্ষা না করে তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। বিশেষ করে যে বিষয়ে শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, শুধু সেই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। আমি আশাবাদী, ইনশা আল্লাহ সামনে আমরা এ বিষয়ে পরিবর্তন আনতে পারব।’

প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, যারা জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের প্রতি যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি বা কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

একজন শিক্ষার্থীর ফল খারাপ হওয়ার পেছনে শুধু মেধার ঘাটতি দায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারিবারিক ও আর্থিক অসংগতি, শিক্ষকের অভাব, শ্রেণিকক্ষের সংকট, পরীক্ষার আগে অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক সংকটের মতো নানা কারণ থাকতে পারে। শিক্ষকসংকট থাকলে শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকলে অবকাঠামো তৈরি এবং আর্থিক অসংগতি থাকলে সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, এখন শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগ নয়, প্রতিটি উত্তরের গুণগত মানও নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সরকার গঠনের চার মাসের মধ্যে এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসি বা এইচএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থ হওয়া নয়। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ভবিষ্যতে সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না, আবার খারাপ ফল করেও অনেকে জীবনে সফল হন।

মাহ্দী আমিন বলেন, কোনো শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে খারাপ ফল করলেও তার অন্য বিষয়ে মেধা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতা থাকতে পারে। কেউ খেলাধুলায়, কেউ সংস্কৃতিতে, কেউ বিজ্ঞানে উদ্ভাবনী কাজে, আবার কেউ ব্যবসায় ভালো করতে পারে। একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে তার অন্য সব যোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায় না।

তিনি আরও বলেন, শুধু সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন বিচার করা ঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ওপর আস্থা ও আত্মবিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পায়নি উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো উন্নয়নই অর্থবহ হবে না। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সব অংশীজনকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। এ সময় গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, ডা. আরিফুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
‘শৈশবে অর্জিত শিক্ষা ও সংস্কার মানুষকে সারা জীবন পথ দেখায়’
ফুলতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম ঢাকায় গ্রেপ্তার
রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
প্রেমের টানে জামালপুরে ফিনল্যান্ডের যুবক