সরকারের সার্বিক নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানে
কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত

সরকারের সার্বিক নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনের এ উৎসব।
উৎসব ঘিরে এবার দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। রাজধানীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে ছিলেন। সড়ক ও বিসর্জনস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গত বছরের ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা
গত বছর দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগানোসহ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এবার এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রতিমা তৈরির শুরু থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৪৯৬টি। রাজধানী ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে ৩ দিন করে। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।
পাশাপাশি পূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য, সাড়ে তিন হাজার কোস্টগার্ড সদস্য, ৬ হাজার এসআরবি সদস্য এবং তিন লাখের বেশি পুলিশ সদস্যসহ পর্যাপ্তসংখ্যক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েনের তথ্য জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো। পূজা চলাকালীন সময়ে বাহিনীগুলোর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।
বিসর্জনেও ছিল বাড়তি নিরাপত্তা
বুধবার বিজয়া দশমীতে সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। দুপুরের পর থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। রাজধানীতে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বের করা হয় বিজয়া শোভাযাত্রা।
দুপুরের পর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা পলাশীর মোড়ে জড়ো হন। পরে শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকা থেকে শহীদ মিনার, হাইকোর্ট, পুলিশ সদর দপ্তর, গোলাপ শাহ মাজার ও কোর্ট এলাকা ঘুরে সদরঘাটে পৌঁছায়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।
সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। একই সময়ে তুরাগ নদীতেও চলে বিসর্জন। এ আয়োজন ঘিরে সড়কে পুলিশ, নদীতে নৌপুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন।
নিরাপত্তায় ছিল সমন্বিত উদ্যোগ
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোও নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়। বিভিন্ন মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়। পূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের আবহে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক থেকে কৈলাসে ফিরে যান। আগামী শরতে আবারও তার আগমনের অপেক্ষায় থাকবেন ভক্তরা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













