আইসক্রিম মানেই ইগলু হোক : জি এম কামরুল হাসান

তানিয়া আক্তার
| আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১৯:৪৮ | প্রকাশিত : ০৮ মে ২০১৯, ১৭:২৮

ইগলু আইসক্রিম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। সম্প্রতি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ওয়ার্ল্ড গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড অ্যান্ড লিডার্স অ্যাওয়ার্ড’-এ তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করে আব্দুল মোনেম লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ইগলু আইসক্রিম, ইগলু ডেইরি অ্যান্ড ইগলু ফুডস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী বা গ্রুপ সিইও পদে অভিষিক্ত জি এম কামরুল হাসান  ‘ওয়ার্ল্ড’স গ্রেটেস্ট সিইও ২০১৮-১৯’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সাথে ইগলু নিয়ে দৈনিক ঢাকা টাইমসের বিস্তারিত আলাপচারিতায় ছিলেন তানিয়া আক্তার

ক্যারিয়ারে নতুন পালক এবংওয়ার্ল্ড গ্রেটেস্ট সিইও ২০১৮-১৯পুরস্কারে ভূষিত হওয়েছে অনুভূতিটা কেমন?

যেকোনো কাজের স্বীকৃতি জীবনের সুন্দর প্রাপ্তিগুলোর অন্যতম। আর বিশ্বের কাছে মাতৃভূমির মানবৃদ্ধি করতে পারার আনন্দ তুলনাহীন। আব্দুল মোনেম লিমিটেড আমাকে ইগলুর সহযোগী করে এই সুযোগ দেওয়ায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি বিশ্বাস করি, কাজের প্রতি নিরবচ্ছিন্ন নিষ্ঠাই পারে ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি বিশ্বের কাছে দেশকে সমাদৃত করতে। তাই কাজের জায়গায় আমি শতভাগ দায়িত্বশীল কর্মী থাকতে চাই।

ইগলুর সঙ্গে পথচলার শুরু কখন?

২০১৫ সাল থেকে ইগলুর সাথে কাজ শুরু করি। এর আগে দীর্ঘ ২৩ বছরের অভিজ্ঞতা তো রয়েছেই। কর্মজীবনে প্রবেশ করেছি নেসলের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে। প্রায় এক যুগ ছিলাম সেখানে। তারপর খুব অল্প সময়ের জন্য রহিম আফরোজের সাথে সম্পৃক্ততা এবং শেষে নিউজিল্যান্ড ডেইরিতে ছিলাম। প্রাণের গ্রুপ মার্কেটিংয়ে কাজ শেষে যোগ দিয়েছি ইগলুর সিইও হিসেবে। ইগলু আইসক্রিম, ডেইরি অ্যান্ড ফুডের পুরো দায়িত্বে রয়েছি। সব মিলিয়ে ইগলুতে আছি সাড়ে তিন বছরের মতো।

ইগলুকে জনপ্রিয় করার গল্পটা শুনতে চাই

আইসক্রিম তো প্রতিবেলার খাবার না। এটা না খেলেও চলে। তাই আইসক্রিমকে জনপ্রিয় করাটা জটিল কাজ। এছাড়া আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ইগলু প্রথমত একটা ভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কারণ একটি কনস্ট্রাকশন গ্রুপের কাজের ধরণের কাছে আইক্রিম প্রতিষ্ঠান খুবই ক্ষুদ্র। সেক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে এগুতে হয়েছে।  শুরুতে এদেশের ভোক্তাদের চাহিদা কোন দিকে সেদিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কাপ কিংবা কোন আইসক্রিমের প্রতিই তাদের আগ্রহটা রয়েছে নাকি নতুনত্ব চায়। পরে বোঝার চেষ্টা করেছি আইসক্রিম প্রতিবেলার খাবার না হলেও যদি কেউ খেতে চায় তাহলে কী করা উচিত। তখন একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করেছি। ক্যাটাগরি নির্ণয় করেছি যে কেন মানুষ অন্য খাবারের মতো আইসক্রিমটাও খাবে। সেক্ষেত্রে প্রতিবছর নতুনত্ব এবং বৈচিত্র্য রেখে ভোক্তাদের কাছে ইগলুকে নিয়ে যাচ্ছি।

ইগলুর উপাদান, উৎপাদন প্রক্রিয়া মান নিয়ন্ত্রণ করেন কীভাবে?

বিশ্বের অন্যান্য দেশে আইসক্রিমে যে ধরনের উপাদান ব্যবহার করে, ইগলুতেও একই উপাদান ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৯০ ভাগ উপাদান ইউরোপ থেকে আমদানি করি। প্যাকেজিং বাংলাদেশে আবার কিছু কিছু প্যাকেজিং দেশের বাইরে থেকেও আসে। কিন্তু তৈরির প্রণালীটা (রেসিপি) ভিন্ন। বাংলাদেশি ভোক্তাদের খাবারের রুচি অনুযায়ী শুধু ফ্লেভার কিংবা টেস্ট পেলেটটা পরিবর্তন করি। কারণ এদেশের মানুষেরা বেশি মিষ্টি খেতে পছন্দ করে। তো এই মিষ্টিগুলো ঠিক করি। তবে ক্রিম বা চকলেটের ক্ষেত্রে আমরা একই গুণাগুণ রাখি। আর উৎপাদনের ক্ষেত্রে দু একটা প্যাকেজিং ছাড়া পুরোটা স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে যে ধরণের মেশিনারিজ দরকার আমাদের মেশিনগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। ইগলুর ফ্যাক্টরিগুলোও উন্নত বিশ্বের মতো।

বাংলাদেশে আইসক্রিমের বাজারের বর্তমান অবস্থা ভবিষ্যৎ কেমন?

খুবই সম্ভাবনাময় একটি শিল্প হতে যাচ্ছে আইসক্রিম। কারণ, এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। লোডশেডিংয়ের মাত্রাও অনেক কমে গেছে। তাই মধ্যবিত্ত ঘরে এখন ফ্রিজ রাখা বিলাসিতা নয়। রাস্তাঘাটও অনেক উন্নত হয়েছে। মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণ। আর তারা নতুন নতুন ব্যাপারে আগ্রহী হয়। আয়ও মানুষের বেড়ে গেছে। ফলে মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে অন্য খাবারে মনোযোগী হতে পারছে। আর আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরণের ব্যবসা বেশ ভালো চলে। তাই এসব ব্যাপারগুলো আইসক্রিমের জন্য  বেশ অনুকূলে আছে।

ইগলুর অর্জন সম্পর্কে বলুন...

বাংলাদেশে চার বার ইগুলু বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। এছাড়া গতবছর ইগলু  আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাস্টেড গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বছর ইগুল ছিলো বিশ্বের ১০০ ব্র্যান্ডের মধ্যে একটি। এই স্বীকৃতিগুলোই প্রমাণ করে ইগলু ভোক্তাদের নিরেট বিশ্বাসের জায়গা। এই বিশ্বাসই আইসক্রিম বাজারে ইগলু ভোক্তাদের শীর্ষে থাকবে।   

আপনাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

আইসক্রিমে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বৈচিত্র্যতা।  প্রতিবছর আমরা পাঁচটা ছয়টা নতুন নতুন ফ্লেভার নিয়ে নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করছি। এ বছরও ছয়টা আইসক্রিম বাজারে এনেছি। যেমন ম্যাঙ্গো বার, যা আম এবং দুধের সমন্বয়ে তৈরি করা। আবার খেজুরের গুড়ের আইসক্রিম এসেছি। এছাড়া হরলিক্সের পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ উপাদান বা কফি দিয়েও আইসক্রিম নিয়ে এসেছি। বৈচিত্র্যতার বাইরে আমরা উপজেলা পর্যায়ে ইগলুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন?

বাংলাদেশের আইসক্রিম বাজারের বড় অংশটা এখনো রাস্তাকেন্দ্রীক। কিছু অংশ রয়েছ বিভিন্ন রেস্তোরাঁ বা আইক্রিম র্পালারে। কিন্তু ভোক্তারা এখনো অন্যসব জিনিসের মতো ঘরে বসেই আইসক্রিম খেতে চায় না। এছাড়া অনেকেরই এ ধারণা প্রবল যে, ঠান্ডার সমস্যা তৈরি করবে। তবে যাদের আগে থেকে ঠান্ডার সমস্যা আছে, তারা ছাড়া আইসক্রিম খেলে ঠান্ডা লাগার কারণ নেই। আবার গ্রাম পর্যায়ে ইগলুর প্রসার করতে চাইলে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ, দোকানে ফ্রি ফ্রিজ কিনে দিতে হয়। এছাড়া বিয়ে বাড়ি বা পার্টি শেষে দই কিংবা ফিরনি খেতে চায়। এই জায়গাটা আইসক্রিমের করা যাচ্ছে না। এর কারণ ভোক্তারা এখনো ঘরে বসে আইসক্রিম অর্ডার করে খাচ্ছে না। ধীরে ধীরে হোম ডেলিভারির দিকে ভোক্তারা আগ্রহী হলে তা উৎরানো সম্ভব।

গ্রুপ সিইও হিসেবে ইগলু নিয়ে এখনকার ভাবনা কেমন?

ইগলু নিয়ে আমার একটা স্বপ্ন আছে। আইসক্রিমের বিকল্প নাম যেন ইগলু হয়। মানুষ যেন বলে আমাকে একটা ইগলু দাও।

(ঢাকাটাইমস/৮মে/টিএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :