ঢাবিতে গেস্টরুম না করায় কক্ষে তালা!

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫১ | প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:০১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলে গেস্টরুম না করায় প্রথম বর্ষের ২২৬ নম্বর রুমে তালা দিয়েছে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগের কর্মীরা।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী সূর‌্যসেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ইমরান সাগ‌রের নির্দেশে তালা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগের একটি প্রোগ্রামে নেওয়ার  জন্য সকাল ৬টার দিকে প্রথম বর্ষের সবাইকে ঘুম থেকে তোলা হয়। তবে সেদিন প্রোগ্রামটি বাতিল হয়। ওই দিন রাত ৯টার দিকে জয়ের অনুসারীদের নিয়মিত অতিথিকক্ষে (গেষ্টরুমে) প্রথম বর্ষের সবাইকে ডাকা হয়। বিভিন্ন কাজ থাকায় অতিথিকক্ষে উপস্থিত হতে পারেননি ২২৬ নম্বর রুমের কয়েকজন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই রুমে তালা দেয় তৃতীয় ব‌র্ষের ছাত্রলী‌গ কর্মী অর্পণ, দ্বিতীয় বর্ষের মো. সোহান, মশিউর রহমান, আরিফসহ আরও কয়েকজন। তখন নির্দেশ দেয়া হয় রুমের সবাই এলে রাত ১টার দিকে যেন তারা ২০১ নম্বর ‍রুমে বড় ভাইদের সঙ্গে দেখা করে।

অভিযুক্তদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, খু‌নের মামলার আসামি, চাঁদাবাজি, হলে বাকি খেয়ে টাকা না দেওয়া, নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত বলে জানা গেছে।

রুমে তালা দেওয়ার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে তালা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মশিউর জানান, সিনিয়রদের কথা না শোনায় তালা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় মশিউর ক্ষিপ্ত হয়ে তার এক সহযোগীর কাছে জানতে চান এই খবর (তালা দেওয়া) বাইরে গেল কীভাবে। এরপর আরেক সহযোগীকে প্রথম বর্ষের সবাইকে ২০১ নং রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০১ নং রুমে নিয়ে বড় ভাইরা আমাদের মোবাইল চেক করে। অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে জানতে চায়, কে রুমে তালা দেওয়ার তথ্য পাচার করেছে।’

পরে ওখানেও সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তাদের সবাইকে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে জানতে চাইছি এই মিথ্যা খবর কে ছড়িয়েছে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও জানান, পরদিন তাদের  অনেকের পরীক্ষা। তারপরও তালা দিয়েছে বড় ভাইয়েরা।

তালা দেওয়ার ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান সাগর। বলেন, ‘আমি আজ সারা দিন বাইরে ছিলাম। এখন আপনাদের কাছ থেকে ঘটনাটা শুনলাম।’

তবে গেস্টরুমের কথা অস্বীকার না করে ইমরান বলেন, ‘আমাদের সবাই মিলে একসঙ্গে বসার জায়গা গেস্টরুম। এটা অনেকটা ঐচ্ছিক। যেহেতু বসার জায়গা তাই সবাইকে অনুরোধ করা হয় আসার জন্য।’

মঙ্গলবারের রাতের ঘটনায় প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে  বলে জানান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমান। তিনি বলেন,‘আমরা হল প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেছি। জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনব আমরা।’

হল প্রাধ্যক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একা‌ধিকবার ফোন করেও তা‌কে পাওয়া যায়‌নি।

(ঢাকাটাইমস/১৮সেপ্টেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :