ক্লাবগুলো সতর্ক, পুলিশের নিষ্ফল অভিযান

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪৭ | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৫

ক্যাসিনো খুঁজতে অভিযানে এসে অবৈধ কিছুই মেলেনি রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ফু-ওয়াং বলিং ও বাংলামোটরের গোল্ডেন ড্রাগনে। আজ সোমবার বিকাল ও রাতে অভিজাত এই দুই ক্লাবের প্রতিটি কক্ষ, মদের বার, জিমে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। কিন্তু নিষ্ফল অভিযান।

পুলিশ সদস্যরা বলছেন, বুধবার ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ও আর কয়েকটি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর অন্য ক্লাবগুলো সতর্ক হয়ে গেছে। সরিয়ে ফেলেছে ক্যাসিনো বোর্ডসহ জুয়ার সরঞ্জাম। তাই অভিযানে মিলছে না কিছু।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে সবাই সতর্ক হলেও আবার যাতে সংগঠিত হতে না পারে সেজন্য এই অভিযান চলছে। এটা রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে চলবে বলে জানান তারা।

এর আগে গতকাল রাজধানীর ফকিরাপুলে চারটি ক্লাবে অভিযান চালায় ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ। ক্লাবগুলোতে কয়েকটি ক্যাসিনো বোর্ড, জুয়া খেলার কার্ড ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি। অভিযানেরআশঙ্কায় আগেই ক্লাবগুলো টাকা-পয়সা, মদ বা অনান্য সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিল।

ক্লাবগুলো এ ধরনের অভিযানের গত বুধবার শুরু করে র‌্যাব। ওই দিন পুলিশের অভিজাত বাহিনীটি অতর্কিত অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুলের চারটি ক্লাবে বিপুল পরিমাণ মদ, মোটা অঙ্কের টাকা এবং ১৮২ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন বনানীর একটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয় সেটি।

এর এক দিন পর রাজধানীর ধানমন্ডি ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখানে বিশেষ ইয়াবা, অস্ত্র-গুলি ও ক্যাসিনোর কার্ড উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সিলগালা করে দেওয়া হয় ধানমন্ডি ক্লাব।

রাজধানীতে জুয়া ও ক্যাসিনো চলার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ। অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের যোগসাজশেই এতদিন চলে আসছে এসব অবৈধ কারবার। এসব সমালোচনার মধ্যে রবিবার অভিযানে নামে বাহিনীটি। কিন্তু অভিযানে মিলেনি তেমন কোনো ফল।

আজ বিকালে তেজগাঁওয়ের ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। তাতে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।

অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমরা ক্লাবটিতে অভিযান চালিয়েছি। এখানে জুয়া বা অবৈধ কোনো ধরনের কাজ হয়ে থাকে কি না সেটি যাছাই করেছি। অভিযানে তেমন কিছু পাইনি। এখানকার বারটির 'ক্লাব বার' পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। তাদের দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে।'

সরেজমিনে দেখা গেছে, অর্ধ পরিত্যক্ত ফু-ওয়াং ক্লাবটি তিন দিন আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর জমজমাট থাকত রাজধানীর অভিজাত এই ক্লাবটি। হঠাৎই ক্লাব কর্তৃপক্ষ সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে বলে বন্ধ রেখেছে সেটি। এ অবস্থায় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের শিল্পাঞ্চল জোন এখানে অভিযান চালাল।

পুলিশ বলছে, ক্যাসিনো ও জুয়া খেলাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু ক্লাবটি বন্ধ থাকায় ভেতরে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন কোষাধ্যক্ষ ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে ক্লাবটি প্রায় অর্ধপরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পেরেছে। যাদের লাইসেন্স আছে তারাই একমাত্র এখানে এসে মদ বা লিকার খেতে পারেন।’

‘এর বাইরে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলার কোনো ধরনের সরঞ্জাম এখানে আমরা পায়নি। তারপরেও আমরা খতিয়ে দেখছি তারা প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কাজ করছে কি না। আমাদের ফোর্স আছে ভেতরে, তারা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে এ নির্দেশনা আছে।’

তেজগাঁওয়ে অভিযান শেষে মগবাজার রেলগেট এলাকায় পিয়াস চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অভিযান চালানো হয়। সেখানকার মদের বারে কয়েকজনকে পাওয়া যায়। যাদের সবাই কার্ডধারী মাদকসেবি হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এখানেও অভিযানে কোনো অবৈধ কিছু মেলেনি।

ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পুনরায় কেউ যাতে সংগঠিত হতে না পারে এই জন্য আমরা অভিযান চালাচ্ছি। কোথাও অবৈধ কিছু মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। এখানে কিছু পাওয়া যাবে না বলে অভিযান চালানো যাবে না এমনটি না।’

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/এসএস/জেবি/মোআ)  

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :