‘আমাকে দেখে কৃষাণীরা উদ্বুদ্ধ হবে’

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
| আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৬ | প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২১
উম্মে কুলসুম স্মৃতি

কৃষক লীগের শীর্ষ পদে প্রথমবারের মতো নারী নেতৃত্ব এল। সংগঠনটির জন্মের পর গত চার দশকের মধ্যে এবার প্রথম কোনো নারীকে সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো। তিনি আবার পেশায় আইনজীবী। অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

কৃষক-কৃষাণীদের নিয়ে কীভাবে কাজ করবেন অ্যাডভোকেট স্মুতি? তার পেশাগত অবস্থান কৃষকদের জন্য কাজ করায় সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। কারণ একজন আইনজীবী হিসেবে সমাজের তৃণমূলের মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হয় তাকে। আর একজন নারী বলে তাকে দেখে কৃষাণীরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন বলে মনে করেন স্মৃতি। কৃষকদের নিয়ে কাজ করতে আত্মবিশ্বাসী স্মৃতি বলেন, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধতে জানে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা টাইমসের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম মল্লিক

ঢাকা টাইমস: নতুন দায়িত্ব পেলেনআপনার অনুভূতি জানতে চাইছি

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: জননেত্রী শেখ হাসিনা যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন সেটা যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারি, সবার আগে সেটাই মনের মধ্যে এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকে কৃষক লীগের নেতৃত্বে একজন নারীকে নিয়ে এসেছেন। পৃথিবীর সব দেশে কৃষিকাজ শুধু ছেলেরাই করে না, মেয়েরাও করে। আমাদের দেশে জমিতে মূলধারার কৃষিকাজগুলো কৃষকরাই করেন, তাতে সহযোগিতা করেন কৃষাণীরা। কৃষিতে ছেলে-মেয়েদের যাতে এক ছাতার নিচে আনা যায়, কৃষক-কৃষাণী মিলিয়ে যেন বাংলার কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সে জন্য আমাকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়েছে।

ঢাকা টাইমস: আপনি পেশায় আইনজীবী, এই দায়িত্ব সামলাবেন কীভাবে?

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: আমি আইনজীবী বটে। আমি কিন্তু আইনজীবীদের সঙ্গেও রাজনীতি করেছি একসময়। সাহারা আপার নেতৃত্বে আমি আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সঙ্গে থেকে অনেক কাজ করেছি। ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর‌্যন্ত। এরপর আমার মনে হয়েছে কৃষকদের জন্য কাজ করতে হবে। কৃষকদের যদি সংগঠিত করা যায়, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। নেত্রী আমাদের বলেছেন, কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও। সেই কথাটি অন্তরে গেঁথেছে।

আমার মাথায় কাজ করত যে একদম তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের কৃষক লীগের ছোঁয়া দিতে হবে। সেই চিন্তা-চেতনা থেকে আমি ২০০৩ সালে কৃষক লীগে সম্পৃক্ত হই। একসময় আমি কৃষক লীগের আইন সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি। তারপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সব মিলেই আমার কাছে মনে হয়েছে একেবারে তৃণমূল নেতাকর্মীর কাছে যেতে হলে কৃষক লীগ করা খুব দরকার। তাহলে বাংলাদেশকে তৃণমূলে থেকে একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে ভূমিকা রাখতে পারব।

ঢাকা টাইমস: কিছুদিন আগে কৃষকদের জমি থেকে ধান কাটা নিয়ে একটা সংকট তৈরি হয়েছিলতা থেকে উত্তরণে আপনার ভূমিকা কী ছিল, কিংবা ভবিষ্যতে ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন?

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: সে সময় সংকট নিরসনে সংগঠনের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ আমরা বারবার গিয়েছি মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে। কৃষকদের কীভাবে ভর্তুকি দিয়ে, মূল্য দিয়ে বা ধানের দামটা পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করেছি। একটা বিষয় হলো, আমাদের দেশের কিছু লোকের মধ্যে নেতিবাচক কিছুকে অতিরঞ্জন করার প্রবণতা আছে। ধান কাটা নিয়েও তখন অতিরঞ্জন হয়েছে। কৃষকের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন এবং করছেন। কৃষকের জন্য যত রকমের ভর্তুকি, সব দেওয়া হচ্ছে। আজকে কৃষির যতগুলো সেক্টর আছে সবখানে আমাদের সফলতা। মাছে খাদ্যে ধানে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। সবজি উৎপাদনে আমরা বিশ্বে চতুর্থ। এমনকি আমরা পুষ্টিতে এগিয়েছি। ইনশাল্লাহ এভাবে আমরা এগিয়ে যাব।

ঢাকা টাইমস: সরকার কৃষকদের জন্য যে বরাদ্দ দেয় তা অনেক জায়গায় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের হাতে পৌঁছায় না বলে অভিযোগ ওঠেবিষয়ে আপনার কী ধরনের ভূমিকা থাকবে?

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: প্রধানমন্ত্রী এবারের সম্মেলনে তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি কৃষকদের জন্য যা দেন তা যেন প্রান্তিক কৃষকের হাতে পৌঁছায়। সেটা দেখার জন্য নেত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা কৃষক লীগের মাধ্যমে চেষ্টা করব যাতে কৃষকরা বঞ্চিত না হন।

ঢাকা টাইমস: দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কোন স্তর পর্যন্ত কৃষক লীগের কমিটি আছে?

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: আমাদের কেন্দ্রসহ প্রতিটা জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সংগঠনের কমিটি আছে। যে যেভাবেই নিক না কেন, গত কমিটির মোতাহার ও সাজু ভাইয়ের নেতৃত্বে কৃষক লীগ অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশের কৃষক লীগ আমি মনে করি এশিয়ায় সর্ববৃহৎ কৃষক সংগঠন।

ঢাকা টাইমস: কৃষাণীদের নিয়ে কিছু ভাবছেন?

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: তাদের নিয়ে কাজ করতে নেত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি মনে করি কৃষাণীরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবে আমাকে দেখে। আমি যতগুলো কমিটি করব তাতে কৃষাণীদের রাখার চেষ্টা করব, যাতে করে তারা রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনে ৩৩ পার্সেন্ট মহিলা আসুক। আমরা মনে করি নারী নেতৃত্বের বড় একটা অংশ যদি কৃষিতে আসে তাহলে দেখা যাবে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ নামে যে প্রকল্পটা সরকার নিয়েছে, সেটা আরও বেশি সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন হবে।

ঢাকা টাইমস: আইন পেশার পাশাপাশি কৃষককে নিয়ে কাজ করার সমীকরণটা কীভাবে মেলাবেন?

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: আইনজীবীরা সমাজের সবচয়ে বড় একটা জায়গা দখল করে থাকে। বাংলাদেশে কৃষক লীগের শুরুর নেতৃত্ব কিন্তু আইনজীবীর হাত দিয়েই হয়েছে। ব্যারিস্টার বাদল রশিদ এবং আব্দুর রব। জাতির জনক তাদের হাতেই কৃষক লীগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তারা কত কত মামলা সামলে এ সংগঠনকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছেন। আমি একজন ক্ষুদ্র আইনজীবী। ২০০৩ সাল থেকে আমি কৃষক লীগে আছি। এই সংগঠন করা অবস্থাতেই বিগত পাঁচ বছর আমি মহিলা এমপি ছিলাম গাইবান্ধা জেলার। আমি চেষ্টা করব আইন অঙ্গনের কাজ আলাদা এবং সংগঠনের কাজ আলাদাভাবে করতে। একটা কথা আছে না, যে রাঁধতে জানে সে চুলও বাঁধতে পারে।

ঢাকা টাইমস: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

উম্মে কুলসুম স্মৃতি: আপনাকেও ধন্যবাদ।

গত ৬ নভেম্বর বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষক লীগের দশম জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংগঠনের দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন সভাপতি হিসেবে সমীর চন্দ্র চন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উম্মে কুলসুম স্মৃতির নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দুজনই আগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৩নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :