যুবলীগের শীর্ষ পদে জল্পনা হার মানবে চমকে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:১১ | প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০১

শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনের অপকর্মে ইমেজ সংকটে পড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের দায়িত্বে কারা আসছেন তাদের নিয়ে বেশ আগে থেকে জল্পনা-কল্পনা আছে। তালিকাটি ছোট হয়ে তা এখন রূপ নিয়েছে গুঞ্জনে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে শীর্ষ দুই পদের জন্য। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের জল্পনা-কল্পনা, নেতাকর্মীদের ধারণা, কিংবা গণমাধ্যমের গুঞ্জন- সবকিছু হার মানতে পারে যুবলীগের নতুন নেতা নির্বাচনের চমকে।

দীর্ঘ ৬ বছর পর আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হতে যাওয়া সংগঠনটির সপ্তম কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী  লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

বহুল আলোচিত এই কংগ্রেস ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সম্মেলন সামনে রেখে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশে বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা স্লোগানে বলা হচ্ছে, যুবলীগের নতুন যাত্রা শুরু হোক জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। 

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যুবসমাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার জন্য আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি। সাম্প্রতিক সময়ে জৌলুশপূর্ণ এই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো চালানো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্র প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার, কাউকে কাউকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার এমনকি খোদ সংগঠনের চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজনকে যুবলীগের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি কংগ্রেসে।  

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সংগঠনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তৎপর দলটির নেতারা। সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে সংগঠনটিতে ক্লিন ইমেজের নেতা উপহার দিতে তারা সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

দলের একটি সূত্রমতে, যুবলীগের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সংগঠনটি নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত খোদ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাই এই সম্মেলনে নতুন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চান তিনি।

ইতোমধ্যে যারা সুবিধাবাদী এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জাড়িত তাদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগ্য নেতাদের একটি তালিকাও রয়েছে শেখ হাসিনার হাতে। তিনি নিজেই এবার যুবলীগের কমিটি দেবেন। তাই প্রতিবারের মতো এবার পদ পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত তদবির করার সাহস দেখাননি কেউ। 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী এবার এমন একজনের হাতে নেতৃত্ব দিতে চান যার হাতে যুবলীগ ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব। তিনি নিজে বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ইমেজ, দক্ষ সংগঠক, পরিবারে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এমন কাউকে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই প্রভাবশালী নেতাদের কেউ কেউ যার যার যার অবস্থান থেকে প্রার্থিতা জানান দিতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেগুলো খুব একটা পানি পাচ্ছে না। 

যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকেই আলোচনায় এসেছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি হিসেবে সবার আগে আছে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা শেখ মণির দুই ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম। 

আওয়ামী লীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, দলের হাইকমান্ড থেকে শেখ ফজলে শামস পরশ, শেখ তাপস ও চিফ হুইপ নূর আলম চৌধুরী লিটনকে সংগঠনটির হাল ধরার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হননি। 

তবে আরেকটি সূত্রমতে, শেখ মণির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ এখন দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরশ যুবলীগের কাণ্ডারি হচ্ছেন বলে গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে দলীয় নেতাদের। 

এ ছাড়া যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের নামও এসেছে আলোচনায়। যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের দুই ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাঈমের নামও কখনো কখনো শোনা গেছে।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন যুবলীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসেন এবং সুব্রত পাল ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহি। 

এ ছাড়া আতাউর রহমান আতা, মোতাহের হোসেন সাজু, আসাদুল হক আসাদ,  ইকবাল মাহমুদ বাবলুর নামও প্রচারে এসেছে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যেও কারও কারও নাম আলোচনায় ঘুরেফিরে চাওর হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারি, ইসহাক আলী খান পান্না, মাহমুদ হাসান রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।

যুবলীগের কর্মীদের ভাষ্যমতে, ঐতিহ্যবাহী যুবলীগকে কলুষিত করেছে কিছু দুষ্ট মানুষ। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নেতা নির্বাচনের  বিষয়টি দেখভাল করছেন, তাই তারা আশা করছেন, এবার এমন এক যুবকের হাতে দলের দায়িত্ব যাবে, যিনি হবেন সত্যিকারের যুবক, যার নেতৃত্বে যুবলীগ ফিরে পাবে হারানো গৌরব।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ শেখ পরশের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ করছেন বলে জানা যাচ্ছে। এ থেকে সভাপতি পদে পরশের সম্ভাবনা একটা জোরালো কানাঘুষায় পরিণত হয়েছে। 

(ঢাকাটাইমস/২৩নভেম্বর/টিএ/ডিএম/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :