দেশজুড়ে পরিবার কল্যাণ সেবাসপ্তাহ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫১ | প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩০

‘পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণ করি, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব রোধ করি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ-২০১৯’। যা চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- অ্যাডভোকেসি সভা, সংবাদ সম্মেলন, সেবাকেন্দ্র হতে বিশেষ সেবা প্রদান, অডিও-ভিডিও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, টিভি চ্যানেলে স্ক্রলিংয়ের মাধ্যমে বার্তা প্রচার, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ডকুমেন্টারি প্রচার ইত্যাদি। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতারে জিংগেলও প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্র থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয়ভাবে যথাযথভাবে সেবাসপ্তাহ পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সারা দেশে আটটি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, ৪৮৮টি উপজেলা, ৬০টি মা-শিশুকল্যাণ কেন্দ্র, ৪ হাজার আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র অর্থাৎ মোট ৪ হাজার ৬২৮টি সেবা কেন্দ্র থেকে একযোগে পালিত হবে ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ।

এদিকে কৈশোরকালীন মাতৃত্ব রোধ করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মা হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা বা কুফল আছে তার সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯ বছর বা তার কম বয়সের আগে স্ত্রীর কোমড়ের হাড় পুরোপুরি উপযোগী না হওয়ায় বাচ্চা বেড়ে ওঠার জন্য যথেষ্ঠ জায়গা পায় না। এসময় নারীদের প্রসব রাস্তা ছোট থাকে ফলে বাচ্চা প্রসবের সময় প্রসবের রাস্তা ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভ ও প্রসবজনিত জটিলতা হতে পারে। ফলে মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া গর্ভপাতেরও ঝুঁকি থাকে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেবাসপ্তাহে যাতে করে মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে বেশি করে অবহিতকরণ করা হয় সে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন,সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষার বিষয়ে কিশোরীদের সচেতন করতে এনজিওদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

এদিকে রাজধানীতেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেবা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। যদিও আগে থেকেই মিরপুর এলাকায় এই ধরণের কর্মসূচি চলে আসছে।মিরপুরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল হাদীর উদ্যোগে বেসরকারি এনজিও ‘বাপসা’ ২০টি স্কুলে কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ে পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করেছে।

ঢাকাটাইমসকে আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন,গত একবছর ধরে রাজধানীতে স্কুলে স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। কৈশোরকালীন মাতৃত্বের ঝুঁকি এবং কুফল সম্পর্কে কিশোরীদের সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এনজিও বাপসা এগিয়ে এসেছে।তারা এনজিওদের ২০টি স্কুলে পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করেছে। যা এখনো চলছে।

তিনি বলেন,সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে ক্লাব পর‌্যায় থেকে বাংলাদেশ বেতারের প্রচারণা চালানো হয়েছে। আমি মিনা বলছি এই ধরণের কার্টুনের মাধ্যমে কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রচারণা চালানো হয়েছে।যা সচেতনতা তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

(ঢাকাটাইমস/০৭ডিসেম্বর/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :