করোনা যুদ্ধে ওদের প্রস্তুতি সামান্য চাল

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
  প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ১০:৪৪| আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ১১:০৯
অ- অ+

মাহেলা, শান্তি, রমিসা, সূর্য বেগমদের কথাই বলছি। কোটি কোটি টাকা, হাজারো চিকিৎসক। রয়েছে অদৃশ্য ঘাতক করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাব্য ব্যবস্থা। তারপরেও ফেল করছেন অনেকেই।

আবার কেউ কেউ উপরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিচ্ছেন। সৃষ্টিকর্তার দিকে তাকিয়ে আছেন। এ যেন মরণ যুদ্ধ। এতো কিছুতেও শান্তির বার্তা কই? কবে নাগাদ করোনা মোকাবেলায় শান্তি আসবে এমনটা নির্দিষ্ট করে বলাও কঠিন।

এমন বাস্তবতায় নিন্ম আয়ের সূর্য বেগমদের প্রস্তুতি অল্প কিছু ত্রাণের চাল। মোটা এ চালগুলো অল্প পানিতে যেমন সিদ্ধ হয় না। তেমনি স্বাদহীন খসখসে ভাত। এটাই তাদের করোনা প্রস্তুতি।

করোনাকে কেন্দ্র করে দেশের সরকার, এনজিও ব্যাক্তি উদ্দ্যোগে অনেকেই সহায়তা দিচ্ছেন অসহায়দের। সরকার থেকে দেওয়া রেশনের চাল। যা ৩০ কেজি সংগ্রহ করতে হয় ৩০০ টাকা দিয়ে। এ সুযোগ পেতেও করতে হয় লবিং গ্রপিংসহ নানা তদবির। কেউ পায় কেউ আবার খালি হাতেই ফিরে আসে। স্থানীয় সরকারের অধীনে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের দিয়েও অসহায় অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয় কিছু চাল।

যে চালের বড় একটা অংশ আত্মসাৎ করেছেন অনেক জনপ্রতিনিধি। সরকারি চাল আত্মসাৎ অপরাধে অনেক চেয়ারম্যান মেম্বার সাময়িক বরখাস্তও হয়েছেন।

মহাবিপদের দিনে এমন ঘটনায় চাল বিতরণের কার্যক্রম মেম্বর চেয়ারম্যানদের হাত থেকে ফেরত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সচিবদের। নতুন করে তালিকা করার জন্য নাম ঠিকানা নেওয়া হচ্ছে অনেকের। নেওয়া হচ্ছে ভোটার আইডি কার্ড ছবি ও মোবাইল নম্বর।

এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাক্তি উদ্দোগেও স্বল্প পরিসরে করা হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। পরিমানে খুবই কম। কেউ কেউ দিচ্ছেন সামান্য কিছু চাল। যা দু থেকে চারদিন পরেই ফুরিয়ে যাবে। এমন বাস্তবতার মাসের পর মাস শান্তি বেগমরা চলবেন কিভাবে? এর সমাধান কোথায়? এমন সব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারও।

এনিয়ে বিধবা রমিসাদের সঙ্গে কথা হয়। তাদের নেই স্বামী। নেই অর্থ কড়ি বা জমা জমি। অভাবের তাড়নায় এমনেই দিন যায় কিন্তু রাত পোহায় না। ওদের কষ্টের বর্ণনা ওরাই শুনে। হাড়ে হাড়ে টের পায় ক্ষুধার যন্ত্রণা। কিন্তু কিভাবে মিটাবে এ যন্ত্রণা। তাই দ্বারে দ্বারে না ঘুরে উপায় নাই। এ যেন মরার উপর খারার ঘা।

কোটি কোটি টাকার মালিক এমন মানুষের অভাব নেই বাংলাদেশে। তাকালেই দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কোটিপতি অনেককেই দেখে মনে হয় কেউ যেন কারো নয়।

তাহলে এতো টাকা কি করবেন। লুকিয়ে লুকিয়ে রাখবেন? নাকি অসহায়দের পাশে দাঁড়াবেন? বিবেককে প্রশ্ন করুন। মানবতা বিবেকবোধ জাগ্রত করুন। কোটি কোটি টাকা থেকে ছিটে ফোটা দান করলে কিছুই হবে না

বরং মানুষের উপকার হবে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর মানুষ একটু হলে উপকৃত হবে। মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য এমনটা হওয়াই প্রয়োজন। অল্প কিছু চাল পেলে ওরা লবন দিয়েই একমুঠো ভাত খাবে শান্তি পাবে। আপনার মঙ্গল কামনা করবে কাজেই ওদের দিকে তাকান।

জমিলা রমিসা শেলীরা কিন্তু এ সমাজেরই মানুষ। এসমাজেরই কোনো না কোনো কাজে আসে তারা। মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে আসা ওদের জন্য অভিশাপ নয়। যখন ওরা মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে আগমন করেছে তখনই ওদের অধিকার জন্মেছে। বেঁচে থাকার অধিকার দিন ওদের।

এমনও শুনেছি অল্প পরিমাণ চাল হাতে পেয়েই ওরা রান্না করে খেয়ে নিচ্ছে। ঘরে জমানো দুরের কথা। এযেন আনা মাত্রাই খাওয়া। কারণ এই করোনায় যতটুকু সাহায্য পাচ্ছে তা ওদের জন্য যথেষ্ট নয়।

তাই আসুন মাহেলা জমিলা রমেসাদের করোনাযুদ্ধে সহযোগিতায় হাত বাড়াই। দুর করি অদৃশ্য শত্রু করোনাকে।

লেখক: সাংবাদিক

ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/এসকেএস

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জুলাই শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জুলাই শহীদ দিবস ঘিরে র‍্যাবের নিরাপত্তা জোরদার, সংগ্রহ করছে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের তথ্য
ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা