অজানা ভয় কোভিড-১৯ এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা

অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমেদ
  প্রকাশিত : ১৪ মে ২০২০, ০৯:২৬
অ- অ+

কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসকে ঘিরে যে অজানা ভয় তা বাংলাদেশের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সফলতার সঙ্গে জয় করতে পেরেছে। মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে চায়। কারণ একটি দিন বসে থাকলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। আর সেই অনাহারকে জয় করা আরও কঠিন হয়ে যাবে। পরিবারকে বাঁচাবার তাগিদে বাংলাদেশের মানুষ আজও মরুভূমির তপ্ত বালুতে, কিংবা গভীর জঙ্গলে কাজ করছে।

সরকারি ত্রাণ নিয়ে কিছু কুলাঙ্গারের কুকীর্তি তারা জেনেছে। সরকার সাফল্যের সঙ্গে সেই কীর্তিমানদের শায়েস্তা করেছে। অনেকে ত্রাণ নিতে চায় না। সেটা তাদের সম্মানে লাগে। সেজন্য সরকার উপহার হিসেবে দিতে চাইছে। রাষ্ট্র থেকে “রাষ্ট্রীয় উপহার”। সেটি তার অর্জিত সম্পদ। রাষ্ট্রের কাছে ছিলো। কিন্তু তারপরেও লজ্জা থেকে যায়। হাত থাকতে কেন রাষ্ট্র থেকে নেবো। আমি তাদের এই বোধকে সম্মান জানাতে চাই।

করোনাভাইরাস বাংলাদেশের নিরাপত্তায় একটি হুমকি তৈরি করতে সমর্থ হয়েছিল। প্রথমতঃ বাংলাদেশ চীনকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে। অনেকে অতীত বর্তমান অনেক বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছেন। চীন এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের সহযোগী। বাংলাদেশকে সামরিক খাতে সম্প্রতি দুটি সাবমেরিনে দিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও চীন বাংলাদেশকে সাহায্য করে আসছে।

অপরদিকে ইউরোপ-আমেরিকার অনেকে চীনকে অভিযুক্ত করে চলেছে। আন্তর্জাতিক এই রাজনীতি এবং গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ মোকাবেলায় আমরা কিভাবে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখবো সেটা ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের জনগণ করোনাভাইরাসকে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখছে। সুতরাং, তারা কোনো অভিযোগ বন্ধু চীনের কাছে উপস্থাপন করেনি। হয়তো মহান আল্লাহ তায়ালা বাঙালির এই মহানুভাবটাকে মূল্যায়ন করেছেন। আর তাই ব্যাপক সংক্রমণ হলেও এই ভাইরাস বাঙালিকে অবদমিত করতে পারেনি।

বাঙালির এই যৌক্তিক ও উদার অবস্থান একটি নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে। যেখানে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্র চীনকে দায়ী করে নানান হুমকি দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই নিরাপত্তা বিষয়টি আমাদের অর্থনীতিকে ঘিরে। আমাদের উন্নয়নে রসদ যোগায় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো। সেগুলো থেকে ওইসব উন্নত দেশগুলোতে আমাদের পণ্য যায়। আমরা যদি সেই উন্নয়নধারা বজায় রাখতে চাই তাহলে অবশ্যি গার্মেন্টস খোলা রাখা দরকার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে। আমরা ওইসব দেশের চাহিদা মোতাবেক যদি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে ওই সব দেশের নাগরিকরা আমাদেরকে বন্ধু ভাববে। এতে করে আমাদের নাগরিকরা একটি মহাবিপদকে মাথা পেতে নিয়েছে। করোনাভাইরাসের ভয়কে জয় করে তারা কাজে ফিরে এসেছে।

আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশে আছি চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে। এই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার বিষয়টি কোনো কোনো রাষ্ট্রদূতের নজরে না আসলেও ওইসব দেশের জনগণ ঠিকই খেয়াল করবে বা করছে।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে মূল্য দিতে গিয়ে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছি কি? হ্যাঁ। মস্তবড় একটি ঝুঁকি আমরা নিয়ে ফেলেছি। আর সেজন্য আমাদের সকলের সচেতনতা প্রয়োজন। আমাদের উচিত কেউ অসুস্থ হলে তাকে সাহায্য করা, যাতে সে কোভিড রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে। আমাদের কর্তব্য তাদের জন্য সেবা নিশ্চিত করা। সেজন্য আমাদের নার্স, ডাক্তারদের নিরাপদে রেখে কাজ করতে দেয়া। সেজন্য সত্য কথাটি ডাক্তারকে বলা। এবং কোনোভাবে তাদের মিথ্যা অপবাদ দেয়া থেকে বিরত থাকা। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি সেই ভুলটি করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দিচ্ছি।

সম্প্রতি ডাক্তাররা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। এতে করে ডাক্তাররা শঙ্কার মাঝে পড়ছেন। তারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন তবে তারা কিভাবে আমাদের সেবা করবেন? সুতরাং ডাক্তারকে অভিযুক্ত করবার আগে আমাদের এই মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের পুলিশ, সেনাবাহিনী পথে প্রান্তরে কাজ করছে। এর মাঝে অনেকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আছেন, কিংবা মারা গেছেন। তাদের মনোবল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তারা সকলে আমাদের নিরাপত্তা দিতে শপথ নিয়েছেন। তাদের প্রতি আমাদের আস্থা দেশকে সুরক্ষায় অবদান রাখবে। তারা আমাদের ঘরে থাকতে বলছে। আমরা তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করছি। এতে করে ক্ষোভ তৈরি হয়, যা আমাদের সার্বিক নিরাপত্তার উপর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

জনগণের দায় অনেক বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায়। আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ আমাদের সুরক্ষা করবে। আমরা যদি সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করি তাহলে সরকারও ভুল করতে পারে। তাতে করে সকলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। আমরা যাতে ভুল না করি সেদিকে মনোযোগ দেয়া উচিত।

আমাদের সেবা দেবেন যারা, তাদেরকে সুরক্ষা করবার মাঝে আছে আমাদের নিরাপত্তা। আজ সংসদে কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা আক্রান্ত। এই বিপদ আমাদের সকলের। আমাদের উচিত ছিল ঘরে থাকা। আমরা শুনছি না। আমাদের সকলের দায় এই বিপদ মোকাবেলায়। আসুন ঘরে থাকি, নিরাপদে থাকি। জাতীয় নিরাপত্তাকে সুরক্ষা করি। আমাদের সেবা দিচ্ছেন যারা আমরা প্রতিদিন যেন তাদের দেখলে যথাযথ সম্মান করি। তাতে তাদের সেবার আগ্রহ ও মান বাড়বে। মানবতাবোধ হোক আমাদের শক্তি।

লেখক: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, তিন মাসে মোট প্রাণহানি ৬৪৮
আমরা আমেরিকানদের বিশ্বাস করি না: ইরানের প্রধান বিচারপতি
সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সারাদেশে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কম থাকবে: তিতাস গ্যাস
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা