করোনাকালে দশমিনাবাসীকে আগলে রেখেছেন ইউএনও তানিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩১ মে ২০২০, ২০:৪৬ | প্রকাশিত : ৩১ মে ২০২০, ২০:৩৬

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ফেরদৌস। একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও করোনার হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করতে নিরন্তর ছুটে চলেছেন তিনি। উপজেলাবাসীকে ভালো রাখার জন্য, নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। অল্পদিনের কর্মতৎপরতায় সমুদ্রকন্যা পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী উপজেলা দশমিনার মানুষের মন জয় করেছেন তানিয়া।

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। উপজেলার প্রত্যেকটি সাইক্লোন শেল্টারে নিজে গিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। উপকূলঘেষা ইউনিয়নে যাতে ক্ষয়ক্ষতি না হয় সে জন্য তিনি নিজে গিয়ে সবাইকে সচেতন করেছেন। রাত দেড়টায় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। মানুষের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ঝড়ের পরদিন সকালে গিয়ে ফের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং আশ্রিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

এছাড়া কয়েকদিন আগে বজ্রপাতের আঘাতে আহত এক ব্যক্তিকে নিজে গিয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন তানিয়া ফেরদৌস।

এই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নকে ম্যাপিং করে সাধারণ মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। কোথায়ও সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক নিজের টিম নিয়ে ছুটে যান তিনি। উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন, প্রতিবন্ধী ও ভবঘুরে জনগোষ্ঠীরর প্রতি রয়েছে তার বিশেষ দৃষ্টি। পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশায় সার্বক্ষণিক পাশে থাকেন এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

দেশে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন স্থানীয় প্রশাসন। তবে সরকারি নির্দেশনা ছাড়াও করোনার সংক্রমণ রোধে অনেক কর্মকর্তা নিয়েছেন ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ। এদের মধ্যে সামনের সারিতে আছেন ইউএনও তানিয়া ফেরদৌস। করোনা শুরু থেকেই যখন সরকার দেশকে ঝুঁকির ঘোষণা দিলেন ঠিক তখনই তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য নিয়েছিলেন ব্যতিক্রমী সব পদক্ষেপ। সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রাখতে উপজেলার বাজারকে উন্মুক্ত স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোর বাজারকেও তিনি কঠোরভাবে মনিটরিং করেছেন, যাতে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায়ে থাকে, নিয়ন্ত্রণে থাকে বাজারদর।

করোনা দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম কঠোরভাবেভাবে মনিটরিং করেছেন। কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি জনসেবাও করতে হচ্ছে সমানতালে।

করোনা দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে মধবিত্ত শ্রেণি। যারা কারো কাছে সহায়তা চাইতে পারে না। সেই মানুষগুলোর বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। করোনা প্রতিরোধে তিনি ভ্রাম্যমাণ আাদালত বসিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছেন যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। ঢাকাফেরত মানুষকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে তিনি নিয়েছেন ব্যাপক পদক্ষেপ, যার ফলে এই উপজেলায় এখনো করোনার বিস্তার তেমন ঘটেনি। এভাবে করোনা দুর্যোগে দশমিনাবাসীকে আগলে রেখেছেন তানিয়া ফেরদৌস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানিয়া ফেরদৌস ঢাকা টাইমসকে বলেন, 'আমি গত ফেব্রুয়ারিতে এই উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত আছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলার সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। এই করোনার দুর্যোগের মধ্যেও নিজেকে গুটিয়ে রাখিনি। সরকারের সব ধরনের সেবা তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ে সর্বদা প্রস্তুত আছি।'

সাহসী এই নারী কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসন সামলানোর পাশাপাশি নিজের সংসারকেও সামলাচ্ছেন সমানতালে। দুই সন্তানের জননী তানিয়া ফেরদৌসের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে।

(ঢাকাটাইমস/৩১মে/এমএম/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত