করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ও প্রাণ গেল যেসব আইনজীবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৫৫

চলতি বছরের মার্চ থেকে মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর সর্বোচ্চ আদালতের বেশ কয়েকজন আইনজীবী মারা গেছেন। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাও নিচ্ছেন অনেকেই।

সম্প্রতি মারা যান ব্যারিস্টার তানভীর পারভেজ। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ এপ্রিল তিনি মারা যান। তানভীর সুপ্রিম কোর্টের নিয়িমিত প্রাকটিস করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ডিগ্রি নেয়া এই মেধাবী আইনজীবী বার এট ল’ ডিগ্রি নিয়ে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

প্রসাশনিক ট্রাইন্যুনালে নিয়মিত প্রাকটিস করতেন রশিদ আহম্মেদ। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে পারমিশন পান ২০১৭ সালে। গত ৫ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎরত অবস্থায় মারা যান।

জেলা ও দায়রা জজ থেকে অবসর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত আইন চর্চা করছিলেন নেত্রকোণার মমতাজ আলী ভুইয়া। বৃহস্পতিবার ৮ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সুপ্রিম কোর্টে জানাজা শেষে তাকে নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানার নিজ এলাকায় দাফন করা হয়।

এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুসহ ১৫ জন আইনজীবী আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু গত ১৫ মার্চ সংসদ সচিবালয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ১৬ মার্চ সকালে রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে। ওইদিনই তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। গত ২৮ মার্চ রাত ১২টার দিকে আব্দুল মতিন খসরুকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে ১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী গত ৭ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেলের (ঢামেক) চিকিৎসক মোজাফফর আহমদের তত্ত্বাবধানে মিরপুরের নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আক্রান্ত হয়েছেন আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন। অ্যাডভোকেট আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন নিজ বাসায় একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন। গত ৪ এপ্রিল আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৭ এপ্রিল তাকে শিকদার মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আবুল খায়ের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৮ মার্চ তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আরেক সাবেক সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আসাদ উল্ল্যাহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৩১ মার্চ তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান গত ২২ মার্চ সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হন। তিনি কমফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান ও তার স্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা ছাত্তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে মাহিন বলেন, গত ৫ এপ্রিল আমার ও স্ত্রী ফারজানা ছাত্তারের করোনা টেস্টের ফল পজিটিভ এসেছে। আমরা বাসায় থেকেই আসগর আলী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সরোয়ার ই আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুমন বণিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। গত ৭ এপ্রিল তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবীর পল্লব ও অ্যাডভোকেট একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আইনজীবী একলাস উদ্দিন ভূঁইয়ার গত ৩১ মার্চ করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ সুপ্রিম কোর্ট যুব আইনজীবী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন ও যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন শিকদার করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল রানা করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার জন্য খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুদ কাজল।

(ঢাকাটাইমস/১১ এপ্রিল/এআইএম/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :