সদস্যদের টেকসই ব্যবস্থাপনা কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দিল বিসিএস

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২৯

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সদস্যদের টেকসই ব্যবস্থাপনা কৌশল সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে ‘স্ট্রেটেজি ফর সাসটেইনেবিলিটি ইন দা কনটেক্সট অব ম্যানেজমেন্ট ৩.০’একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।

২১ এপ্রিল বুধবার দুপুরে অনলাইনে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর।

তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা বিষয়টি আমাদের প্রাত্যহিক জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, কার্যালয় সবক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লকডাউনে বাসায় থাকার এই সময়কে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে আমাদের সময়ের ব্যবস্থাপনা নিয়েও পরিকল্পনা থাকা উচিৎ। বিসিএস সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে ব্যবসার প্রয়োজনে হালনাগাদ থাকতে পছন্দ করেন। নিজেদের ব্যবসাকে সফলতার পথে পৌঁছে দিতে ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে হবে।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. বিকর্ণ কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, ২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে আইসিটি ব্যাকবোনের ওপর নির্ভর করে আমরা এখন অনলাইন সমাবেশ করতে পারছি। একজন দক্ষ ব্যবস্থাপকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি যার যে কাজ সে কাজটি তাকে দিয়ে করানোর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে পারেন। আইসিটি ডিভিশন তার সহযোগী সংগঠনগুলোর চাহিদা কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। আইসিটি সংগঠনগুলোর সফলতা মানেই আইসিটি ডিভিশনের সফলতা।

তিনি আরো বলেন, ই-গভর্ন্যান্স এর মাধ্যমে সারা দেশে সরকার যে সার্ভিস ডেলিভারি সেন্টার করেছে, এর দ্বারা গত চার বছরে আমরা ৫৪ কোটি সার্ভিস দিয়েছি। যার অফিসে আসা যাওয়া, যাতায়াত খরচ, সময়ের হিসেবে আর্থিকভাবে যার পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। করোনাকালীন সময়ে শুধু দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা সরাসরি মিটিং এর চেয়ে অনলাইনে বেশি মিটিং সম্পন্ন করতে পেরেছি। পেনডেমিক এর এই সময়ে আমাদের কর্মঘণ্টাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে কঠিন সময়ে উপযুক্ত পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

বিসিএস উপদেষ্টা শাফকাত হায়দার বলেন, কীভাবে কঠিন/দূর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হয় তা শিখতে পারাই হচ্ছে ব্যবসার সফলতা। আর এই শিক্ষাটার ক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা।

গ্লোবাল ব্র্যান্ডের চেয়ারম্যান এ.এস.এম আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, ব্যবসায় উন্নতি করতে হলে আয় ব্যয়ের হিসেব সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। ব্যবসার হালচাল বুঝতে হবে। প্রযুক্তি পণ্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনে কোন পণ্যটি গ্রাহক স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করবেন তা বুঝার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। অবকাঠামো থাকলেই ব্যবসা এমনটা ভাবাও বোকামি। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ই-কমার্স অ্যামাজন, আলি এক্সপ্রেস, ই-বে এর নিজস্ব কোন প্রদর্শনী কেন্দ্র না থাকলেও সারা পৃথিবীতেই তারা পণ্য বিক্রি করছে। সুতরাং আইটি ব্যবসায় যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার কোন বিকল্প নেই।

স্মার্ট টেকনোলজিস বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ম্যানেজমেন্ট থ্রি পয়েন্ট ও ছাড়া এখন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা অচল। একসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই কক্ষে বসে কাজ করার সুযোগ ছিল। এখন সামাজিক দুরত্ব রেখে কাজ করতে হচ্ছে। ব্যবসায় উন্নতির অন্যতম শর্ত হলো সহকর্মীদের কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া।

বিসিএস যুগ্ম-মহাসচিব মো. মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন এর সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই) এর নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন। অনলাইনে প্রায় চার শতাধিক বিসিএস সদস্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বিসিএস এর ফেসবুক পেজে প্রচারিত হয়। এসময় প্রায় তিন হাজার দর্শনার্থী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপভোগ করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের টেকসই ব্যবস্থাপনার কৌশল বাস্তবায়নে কী কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :