‘জিয়া এত নিষ্পাপ হলে বিচার বন্ধ করেছিলেন কেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৬:৩৬ | প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৬:৩৩
ফাইল ছবি

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত নন, বরং আওয়ামী লীগই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন এর কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন উদাহরণ পেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘জিয়া এত নিষ্পাপ হলে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করেছিলেন কেন?’

মঙ্গলবার নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি আজ আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যায় নাকি আওয়ামী লীগ জড়িত এবং সরকার নাকি জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছে- বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্য অনেকটা ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না'র মতো।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব কারা তা এখন জাতির কাছে স্পষ্ট উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কারা হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনি মোশতাক কাকে সেনাপ্রধান করেছিল, জিয়ার ভূমিকা কী ছিল, খুনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে কার কাছে রিপোর্ট করেছিল, তখন জিয়ার মন্তব্য কী ছিল, এসব ঐতিহাসিক সত্য বিএনপি নেতারা নতুন করে বাকপটুতায় ধামাচাপা দেওয়ার নির্লজ্জ ব্যর্থ চেষ্টা করছে, যা করেও কোনো লাভ নেই।’

বিএনপির ‘শীবের গীত’ জনগণের কাছে এখন পরিষ্কার বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কারা নিরাপদে বিদেশে চলে যেতে সহযোগিতা করেছিল, কারা পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছিল, দূতাবাসে কে চাকরি দিয়েছিল,- এসব প্রশ্নের জবাব চেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তা না হলে জিয়াউর রহমানকে ‘ধোয়া তুলসি পাতা’ বানানোর অপচেষ্টা জনগণ কখনও মেনে নেবে না।’

রক্তমূল্যে অর্জিত স্বাধীন দেশের সংবিধানে খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটির বিধান পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে কে সংযোজন করেছিলেন, ওবায়দুল কাদের আবারও বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়ে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যদি এতই নিষ্পাপ হয় তাহলে বিচার বন্ধ করলেন কেন?’

এতসব প্রশ্নের জবাব নিশ্চয়ই বিএনপি দিতে পারবে না বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপি কথায় কথায় মানবাধিকারের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে অথচ সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার একুশ বছর পর্যন্ত আমরা কোনো বিচারই চাইতে পারিনি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত জিয়াউর রহমান কেড়ে নিয়েছিলেন। আর এখন মিষ্টি মিষ্টি কথায় নতুন ইতিহাসের প্রলাপ বকছেন।’

কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা আর কারফিউ গণতন্ত্রের চালু করেছিলেন জিয়াউর রহমান, ক্ষমতায় থেকে প্রহসনের নির্বাচন করেছিলেন। হ্যাঁ- না ভোটের মাধ্যমে এদেশের নির্বাচনের ইতিহাসকে কলংকিত করেছেন জিয়াউর রহমান।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা জিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে যাবো কেন? সময়ের ধারাবাহিকতায় চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসই যার যার স্থান নির্ধারণ করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের ভিলেনকে জোর করে ইতিহাসের নায়ক বানানো যায় না।’

এদেশের রাজনীতিতে খুন এবং হত্যাকাণ্ডের চর্চা বিএনপির নিজস্ব পেটেন্ট উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা এখনও হত্যার রাজনীতি ছাড়তে পারেনি, তার প্রমাণ ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট।’

বিএনপি রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হাওয়া ভবন থেকে গ্রেনেড হামলার নির্দেশনা ও মনিটরিং করে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গিয়েছিলেন!’

তিনি প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, ‘তাহলে জজ মিয়া নাটক কেন সাজিয়েছিলেন? কেন হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করেছিলেন?’

ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নসিহত না করে আগে নিজেরা পরিশুদ্ধ হোন।’

আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে জনমানুষের রাজনীতি করে, মানুষের চোখের ভাষা ও মনের ভাষা বুঝেই শেখ হাসিনা রাজনীতি করছেন এবং সরকার পরিচালনা করছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নিজেদের দুর্গন্ধময় ইতিহাস থেকে বেরিয়ে আসুক, যদি তারা সত্যিকার অর্থে এদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চায়।’

(ঢাকাটাইমস/০৩আগস্ট/টিএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :