হল ছাড়েনি ঢাকা আলিয়ার ছাত্ররা, শনিবার নতুন কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২:৫৭

সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে হল ছাড়তে নোটিশ দিলে আন্দোলন সরকারি আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, হলের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে নির্বিঘ্নে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণ করতে কর্তৃপক্ষ হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তারা হল ছাড়বেন না। উল্টো শনিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা পালন করবে।

বুধবার থেকে তিন দফা নোটিশ দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীরা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেন। তারা জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, আলিয়া মাদ্রাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের সামনেই মাদ্রসা অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেশ কিছু দিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছেন তারা।

সিদ্দিক হোসেন নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, কাশগরী হল ও পাশের ছোট ভবন মিলিয়ে দুটো হলে সর্বোচ্চ তিনশ শিক্ষার্থী থাকতে পারেন। আমরা বারবার নতুন হল করার দাবি করছি। কিন্তু প্রশাসন অজুহাত দিয়ে হল নির্মাণের কোনো চেষ্টা করেনি। কিন্তু এখন মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আমাদের আবাসন সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাদ্রাসার ক্যাম্পাসের মধ্যে অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণ করতে দেব না।

জানা গেছে, গত ৪ তারিখ মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আবদুর রশীদ বাদী হয়ে শিক্ষার্থীদের নামে চকবাজারর থানায় মামলার আবেদন করেন। এই মামলায় বাদী না হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলায় কয়েকজন শিক্ষককে ওসডি করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে প্রথমে বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হল প্রাঙ্গণের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়, ‘গত সোমবার সরকারি কাজে ছাত্রদের বাধা প্রদান, অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করা, ক্যাম্পাসে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা-এর হল কমিটি ও স্টাফ কাউন্সিলের সর্বসম্মতিক্রমে আল্লামা কাশগরী (রহ.) হল ও ইব্রাহীম হল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলো। বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

এই নোটিশের পর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র হতে শুরু করে। তারা জানান, আগামী ৩০ তারিখ থেকে তাদের ফাজিল প্রথম বর্ষের পরীক্ষা। হল বন্ধ করে দিলে তারা কোথায় যাবেন, কোনো অবস্থাতেই হল বন্ধ করা যাবে না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে ফের সংশোধিত নোটিশ দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আল্লামা কাশগরী (রহ.) হল ও ইব্রাহীম হলে অবস্থানরত ফাজিল স্নাতক (পাস) পরীক্ষা-২০২০-এর পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করতে পারবেন না।’

এই সিদ্ধান্তও মানেননি শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, শুধু পরীক্ষার্থী না সবাইকেই হলে থাকতে দিতে হবে। আর কোনো অবস্থাতেই অধিদপ্তরের ভবন মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলন শুরু করেন। বেলা ২টার দিকে ফের নোটিশ দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ানোর জন্য বেলা ৩টার দিকে চকবাজার থানা পুলিশ নিয়ে হল গেটে আসে মাদ্রাসা প্রশাসন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে গেটের ভেতর ঢুকতে না পেরে চলে যান মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আলমগীর রহমান ও হল সুপার সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গির আলম খান।

সর্বশেষ রাতে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা জানান, তারা কোনো অবস্থাতেই হল ছাড়বেন না। এ সময় শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আলমগীর রহমানের পদত্যাগের দাবি জানান।

(ঢাকাটাইমস/০৬জানুয়ারি/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :