ডিজিএফআই কর্মকর্তা হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন আরসা কমান্ডার নূর মোহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২২ জুলাই ২০২৩, ১২:৫৫
অ- অ+

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের কাছে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও ডিজিএফআইয়ের বিশেষ একটি দল। গত বছরের ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় এ অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার রিজওয়ান রুশদী নিহত হন।

এই হত্যার ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় করা মামলায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনি, হাফেজ নূর মোহাম্মদসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

ডিজিএফআই কর্মকর্তা রুশদীকে সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন আরসার সামরিক কমান্ডার নূর মোহাম্মদ। ঘটনাস্থলে নিজে উপস্থিত থেকে রুশদীর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। শুক্রবার রাতে দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় আরও পাঁচ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন- মোহাম্মদ হোসেন জোহার, ফারুক ওরফে হারেস, মনির আহাম্মদ, নূর ইসলাম ও মো. ইয়াছিন। তাদের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, একটি শটগান, চারটি দেশীয় এলজি, তিনটি দেশীয় রামদা ও গোলাবারুদসহ নগদ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/১৭ ব্লকে বসবাস করতেন। তিনি আরসার সামরিক কমান্ডার। তার বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা আছে। তার পিতা মৃত দিল মোহাম্মদ।

গত ৭ জুলাই কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আরাকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এদিন ভোর সোয়া ৬টার দিকে উখিয়ার ৮ ডব্লিউ ক্যাম্পে ওই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন নিহত হন। এই ঘটনাতেও সরাসরি নেতৃত্ব দেন কমান্ডার নূর মোহাম্মদ।

শনিবার র‍্যাবের আইন এ গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, হাফেজ নূর মোহাম্মদ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের অন্যতম সামরিক কমান্ডার হিসেবে ‘আরসা’র নেতৃত্ব দিতেন। তার নেতৃত্বে ‘আরসা’র ৩০-৩৫ জন সদস্য কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ও তার পাশ্ববর্তী এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তারা পাশ্ববর্তী দেশ থেকে দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান করত বলে জানা গেছে। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হাফেজ নূর মোহাম্মদ তার দলের সদস্যদের মাধ্যমে শরণার্থী শিবির ও স্থানীয় জনগণের নিকট হতে খুন, অপহরণ ও গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদার অর্থ না পেলে ভিকটিমকে অপহরণপূর্বক শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায় করত। মুক্তিপণ না পেলে তারা ভিকটিমকে খুন করে গহীন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে লাশ গুম করতেন বলে জানা যায়।

র‍্যাব জানিয়েছে, হাফেজ নূর মোহাম্মদ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক। ২০১৬ সালে সে ‘আরসা’ সদস্য আরিফ উদ্দিনের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘আরসা’য় যোগ দেয়। পরবর্তীতে সে সেকশন কমান্ডারের দায়িত্ব পায়। আরসার সামরিক শাখার প্রধান ওস্তাদ খালেদের সঙ্গে তার বিশেষ সখ্যতা ও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। নূর মোহাম্মদ কুংফুতে ব্ল্যাকবেল্ট প্রাপ্ত ও বিস্ফোরক তৈরিতে পারদর্শী। তিনি আরসার অন্যান্য সদস্যদের কুংফু প্রশিক্ষণ দিতেন। আরসার সামরিক শাখার প্রধান ওস্তাদ খালেদের কাছ থেকে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ ও আরসার মূল সংগঠক আরিফ উদ্দিন হাসেম ওরফে কুইল্লার কাছ থেকে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং শরণার্থী হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-৮ এ অবস্থান করেন। প্রাথমিকভাবে ক্যাম্প-৮ এ আরসার হেড জিম্মাদার হিসেবে দায়িত্ব পান। তার নেতৃত্বেই কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের আরসার সদস্যরা খুন, টার্গেট কিলিং, অপহরণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা চালাচ্ছিল। নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে হেড মাঝি শফি উল্লাহ হত্যাকাণ্ড, সালাম হত্যাকাণ্ড, সলিম হত্যাকাণ্ড, মালেক হত্যাকাণ্ড, হাবুইয়া হত্যাকাণ্ড, ইমান হত্যাকাণ্ড, আবুল মুনসুর হত্যাকাণ্ড, সালেহ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এছাড়াও জোরপূর্বক একজন নারীর ঘরে প্রবেশের সময় তিনি বাধা দিলে তাকে গুলি করে হত্যা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলোচিত ৬ জনকে হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা আছে।

কমান্ডার মঈন বলেন, আরসা সন্ত্রাসীরা চাঁদার অর্থ না পেলে ভিকটিমকে অপহরণপূর্বক শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায় করত। মুক্তিপণ না পেলে তারা ভিকটিমকে খুন করে গহীন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে লাশ গুম করত।

ঢাকাটাইমস/২২জুলাই/এসএস/ইএস

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
জিয়াউর রহমানের কর্ম ও আদর্শ নিয়ে উঁচুমানের গবেষণার আহ্বান ফখরুলের
ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক
দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ, সবচেয়ে অশান্ত রাশিয়া
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা