আন্দোলনে ডান-বাম-ইসলামি দলগুলোকে পাশে চায় বিএনপি

জাহিদ বিপ্লব, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৪৫

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এক দফার আন্দোলনে আছে বিএনপিসহ সমমনা জোটগুলো। বিরোধী এ জোটে ডানপন্থি দলের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি বাম ঘরানার রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যেই এই জোট আসন্ন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি দলও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এবার চলমান আন্দোলনে রাজপথে শক্তি বাড়াতে বাম দলগুলোর পাশাপাশি ইসলামি দলগুলোকে মাঠে নামাতে চায় বিএনপি। ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের পর থেকে দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজপথে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে হরতাল-অবরোধের মতো ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে তারা। ইতোমধ্যে চার দফায় চারদিন হরতাল ও আট দফায় ১৬ দিন অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ৩৬টি ছোট দলও রাজপথে রয়েছে। সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন থেকে পিছু হটবে না তারা, এমনই সিদ্ধান্ত দলগুলোর।

ইতোমধ্যে বিএনপি, ডান-বামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে ধর্মভিত্তিক বৃহৎ রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন। সংলাপে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন, সরকারের পতন এবং রাষ্ট্র মেরামতে জাতীয় ঐক্য গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হন তারা। এছাড়া বিরোধী জোটের চলমান আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়ে মাঠে নিয়মিত কর্মসূচি নিয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলনও।

অপরদিকে সরকারবিরোধী ডান-বামসহ সব ইসলামি দল নিয়ে একটি বৃহৎ আন্দোলনের জোট গড়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জোটের একাধিক নেতা।

জামায়াত প্রকাশ্যে বিএনপির সঙ্গে একমঞ্চে না উঠলেও দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করে যাচ্ছে। এবার রাজপথে আন্দোলনে শক্তি বাড়াতে জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনকেও পাশে চায় বিএনপি। সেজন্য দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা হয়েছে বিএনপির। তবে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধে একাত্মতা ঘোষণা করে জামায়াতের মতো একই কর্মসূচি দেবে না তারা। বিএনপির কর্মসূচিতে নৈতিক সমর্থন থাকবে তাদের। সভা-সমাবেশে-বিক্ষোভ মিছিলের মতো নিয়মিত নানা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবে দলটি।

মঙ্গলবার আন্দোলন বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, তাবিথ আওয়াল, রকিবুল ইসলাম বকুল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আগামীতে আন্দোলন কর্মসূচি আরও জোরালোভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হরতাল-অবরোধ যেন সর্বাত্মকভাবে পালন হয় সেভাবে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া একমাস পর প্রকাশ্যে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং বেগম সেলিমা রহমান। প্রেসক্লাবে বিএনপির নির্যাতিত পরিবারের স্বজনদের সমাবেশেও দেখা গেছে অনেকদিন আত্মগোপনে থানা দলটির নেতাকর্মীদের। বিষয়টি চলমান আন্দোলনে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দলটি।

বিএনপির এক নেতা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চলমান কর্মসূচি থেকে বিএনপির পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া হরতাল-অবরোধ বাদ দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি দেয়ার মতো পরিবেশও নেই। বেশির ভাগ সিনিয়র নেতা কারাগারে। হাজার হাজার নেতাকর্মী মামলার হুলিয়া নিয়ে ফেরারি। ঘেরাও কিংবা সমাবেশের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন। চলমান আন্দোলন থেকে পিছু হটলে কর্মীদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে। তাই আগামী সপ্তাহেও হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতেই থাকতে পারে বিএনপি। তবে কর্মসূচিতে বৈচিত্র্য আনার জন্য নানা আলোচনা চলছে। শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার বিরতির দিনগুলোতে ভিন্ন কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে বিএনপির হাইকমান্ড।

এদিকে, বিএনপি নেতাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগ। চা খাওয়ার জন্য বাসার সামনে দোকানে গেলে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তারা।

এর আগে গত শনিবার ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেনকে ঘেরাও করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আকবর হোসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই। গত সোমবার রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী সোহেলের বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় তাকে বাসায় না পেয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসা তানভীর আহমেদকে বাসার নিচ থেকে আটক করে নিয়ে যায়।

খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনির বাড়িতে এবং তার ব্যবসায়িক অফিসে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় মনির ও তার ছেলেকে না পেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে ভাঙার এবং বিএনপি জোট থেকে কিছু দলকে লোভ দেখিয়ে প্রহসনের নির্বাচনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিছু নিকৃষ্ট লোভী ছাড়া কেউ সরকারের এই হীন কর্মের সঙ্গী হয়নি। এ দ্বারা আওয়ামী হটকারী নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলে থাকা দলগুলোর এক বিরাট পরোক্ষ ঐকমত্য তৈরি হয়ে গেছে। সঠিক নেতৃত্ব পেলে এই পরোক্ষ চিন্তার ঐকমত্য রাজপথের আন্দোলনের জন্য বড় রাজনৈতিক জোট তৈরি করে ফেলতে পারে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। এখন সরকারের উচ্ছিষ্টভোগী কিছু দল ও ব্যবসায়ী এই অবৈধ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘তফসিল জারি মানেই নির্বাচন নয়। একতরফা নির্বাচন এদেশে হবে না, হতে দেওয়া হবে না।’

(ঢাকাটাইমস/০১ডিসেম্বর/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

আ.লীগ আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে: মির্জা ফখরুল

কারামুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের বাসভবনে ড. মঈন খান

নির্বাচনে না আসার ভুলের খেসারত বিএনপিকে দিতে হবে: ওবায়দুল কাদের 

কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলতাফ চৌধুরী

ভেদাভেদ ভুলে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে: মান্না

পিলখানার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সার্বভৌমত্বকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল: ডা. তাহের

পিলখানায় দেশের সার্বভৌমত্ব মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে: ডা. ইরান

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বন্ধু সেজে উঁইপোকার মতো বাংলাদেশের সব কিছু খেয়ে যাচ্ছে: রাশেদ প্রধান 

দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ এখন সরকারের বিপক্ষে: রিজভী

পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের প্রতি আ.লীগের শ্রদ্ধা

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :