আইসক্রিম খেতে খেতে বাইডেন বললেন ‘সোমবারের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:১৪ | প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৫
নিউইয়র্কের একটি আইসক্রিমের দোকান পরিদর্শন করার সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাইডেন। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা আমাকে জানিয়েছে যে আমরা গাজায় একটি যুদ্ধবিরতির বেশ কাছাকাছি রয়েছি। আশা করছি আগামী সোমবারের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসবে।’ সোমবার নিউইয়র্ক সিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বাইডেন এমন এক সময় এমন মন্তব্য করলেন যখন গাজা ইস্যু নিয়ে ইসরায়েলে ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কাতার।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছিলেন, গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে হামাস সর্বশেষ প্রস্তাবিত চুক্তিটি গ্রহণ করবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

এছাড়াও গত সপ্তাহে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার পরিবর্তে নিজেই গাজায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে আক্রমণ না করার জন্য ইসরাইলকে সতর্ক করেছে দেশটি।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বৈঠক করেছেন ইসরায়েল, কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। সেই বৈঠক শেষে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস এবং ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মিসর ও কাতারের কর্মকর্তারা।

সেই বৈঠকেই হামাসকে ৪০ দিন যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ কাতার ও মিসর, যা হামাসের নেতারা পর্যালোচনা করছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বিষয়টির সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স বলছে, প্রস্তাবিত এই খসড়ায় ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি গাজার হাসপাতাল-রুটি-বিস্কুট-কেক তৈরির কারখানাগুলোর পুনর্গঠন ও নির্মাণ, প্রতিদিন উপত্যকায় ত্রাণবাহী ৫০০টি ট্রাকের প্রবেশ এবং গৃহহীন ফিলিস্তিনিদের জন্য কয়েক হাজার তাঁবু পাঠানোর মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসবের পরিবর্তে নিজেদের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে নারী, ১৯ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী, বয়স পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি এবং অসুস্থ- এমন ৪০ জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে হামাসকে।

সেই আলোচনার সূত্র ধরে সম্প্রতি মিসরের একাধিক সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি জানিয়েছে, আসন্ন রমজান মাসের আগেই গাজায় দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এদিন ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। চার মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি নারীও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৬৯ হাজারের বেশি।

গত বছরের নভেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে ২৪ বিদেশিসহ মোট ১০৫ জনকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ২৪০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৭১ জন মহিলা এবং ১৬৯টি শিশু রয়েছে। হামাসের কাছে এখনো প্রায় ১৩৪ জন জিম্মি রয়েছে বলে দাবি ইসরায়েলের।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা

(ঢাকাটাইমস/২৭ফেব্রুয়ারি/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :