স্মৃতিশক্তি বাড়ে থানকুনি পাতা খেলে, অনিদ্রা থাকে দূরে

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৮:৪৯ | প্রকাশিত : ২০ মে ২০২৪, ০৮:৪৭

থানকুনি পাতা আমাদের দেশের খুব পরিচিত বহুবর্ষজীবী লতানো ভেষজ উদ্ভিদ । অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতা আদামনি, টেয়ামানিক, আদানগুনি, মানামানি, মানকি ও ঢোলামনি নামেও পরিচিত। থানকুনি পাতার বৈজ্ঞানিক নাম সেনটেলা অ্যাসিয়াটিকেল। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

জানলে অবাক হয়ে যাবেন, এই উপেক্ষিত পাতা কিন্তু কিছু অত্যন্ত উপকারী ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। তাই নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে যে একাধিক রোগের ফাঁদ অনায়াসে এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে, তা তো বলাই বাহুল্য!

চিকিৎসকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, নিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, অনিদ্রা দূর করে, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলো।

থানকুনি পাতাতে এশিয়াটিকোসাইড, এশিয়াটিক অ্যাসিড, ব্রাহ্মোসাইড, ব্রাহ্মিক অ্যাসিড, ম্যাডেক্যাসোসাইড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, পেন্টাসাইক্লিক ট্রাইটারপেনয়েড, সেন্টেলোজ ও সেন্টেলোসাইড বিদ্যমান।

থানকুনি পাতার একাধিক চমকে দেওয়া গুণাবলী সম্পর্কে জেনে নিন। তারপর আপনিও নিয়মিত এই পাতাকে ডায়েটে জায়গা করে দেবেন। তাতেই ফিরবে আপনার স্বাস্থ্যের হাল।

থানকুনি পাতায় থাকে বেকোসিড এ ও বি। বেকোসিড বি মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পেনটেসাইক্লিক ট্রিটারপেনস নামক একটি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যে কারণে ব্রেন সেলের ক্ষমতা এতটাই বেড়ে যায় যে স্মৃতিশক্তির উন্নতি তো ঘটেই, সেই সঙ্গে বুদ্ধির ধারও বাড়ে চোখে পড়ার মতো। এই কারণেই তো ছোট বাচ্চাদের থানকুনি পাতার রস খাওয়ানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বয়স্ক মানুষরাও যদি নিয়মিত থানকুনি পাতার রস খান, তা হলে শেষ বয়সে অ্যালঝাইমার্স বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতেও সাহায্য করে।

রাতে কি ঠিক মতো ঘুম হয় না? তা হলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন থানকুনি পাতা। দেখবেন, উপকার (মিলবে একেবারে হাতে-নাতে। কারণ, এতে রয়েছে একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডান্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা স্ট্রেস লেভেল কমায়। সঙ্গে নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত রাখে। ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা দূরে পালাতে সময় লাগে না। বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে।

শরীরকে বিষমুক্ত করে। নানা ভাবে আমাদের শরীরে প্রবেশ করা টক্সিক উপাদানদের যদি সময় থাকতে-থাকতে বের করে দেওয়া না যায়, তা হলে কিন্তু চিন্তার বিষয়। কারণ, সেক্ষেত্রে এই সব ক্ষতিকর উপাদানগুলির কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা মাত্র ২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে যদি ১ চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়, তা হলে রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না।

পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না। অ্যাসিয়াটিকোসিড নামে একটি উপাদান রয়েছে থানকুনি পাতায়, যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে স্টমাক আলসারের মতো রোগের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শুধু তাই নয়, পেট খারাপ বা ডায়রিয়ার চিকিৎসাতেও (অনেক সময় এই পাতাটিকে কাজে লাগানো হয়ে যাকে কোথাও কেটে গেলে সেখানে যদি অল্প করে থানকুনি পাতা থেঁতো করে লাগানো যায়, তা হলে দারুণ উপকার পাবেন। এই পাতায় রয়েছে সেপোনিনস নামে একটি উপাদান, যা ক্ষতস্থানে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, যে কারণে ক্ষত শুকিয়ে যেতে সময় লাগে না। ক্ষতস্থানে কোনও ধরনের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে। ত্বকের ওজ্জ্বল্য বাড়ায় থানকুনি পাতা ৷ প্রতিদিন থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে বড় বড় রোগের থেকে জয় পাওয়া সম্ভব ৷

অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমায়। এমন ধরনের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাদের নিয়মিত করে খেতে হবে থানকুনি পাতার রস, তা হলেই মিলবে উপকার। কারণ, এতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যে কারণে স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব কমতে শুরু করে। ফলে অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। এমনকী, স্ট্রেস লেভেলও যেমন কমে, তেমনই বারে-বারে অ্যাংজাইটি অ্যাটাকের কবলে পড়ার আশঙ্কাও কমে। মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।

থানকুনি পাতা অবসাদ দূর করে। নিয়মিত মন ভালো না থাকার সমস্যাকেই বিজ্ঞানের পরিভাষায় অবসাদ নামে ডাকা হয়। এই রোগকে প্রথমেই বাগে না আনলে একাকিত্ব, কাজে অনীহা, অনিদ্রা থেকে শুরু করে একাধিক জটিল সমস্যার ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দেয়। তাই প্রথম দিন থেকেই এই সমস্যাকে বাগে আনার কাজে নেমে পড়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে থানকুনি পাতা। তাই মনের কোণে ঘন কুয়াশা জড়ো হলে এই পাতাকে ডায়েটে জায়গা করে দিতে দেরি করবেন না!

যেভাবে থানকুনি পাতা খাবেন

প্রতিদিন সকালে উঠে কয়েকটি থানকুনি পাতা পানি দিয়ে গিলে খেয়ে নিন। কিংবা এই পাতার রস করেও সেবন করতে পারেন। আবার পাতা কুচিকুচি করে ভর্তা করে ভাতের সঙ্গেও খান অনেকে। যেভাবেই খান উপকার মিলবে হাতেনাতে।

(ঢাকাটাইমস/২০ মে/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :