মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশ কম, জ্বালানি খরচ উঠছে না জেলেদের

চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০২৪, ১১:২৫| আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৫৭
অ- অ+

মৌসুম শুরু হলেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিন ও রাতে নদীতে চষে বেড়ালেও জ্বালানি খরচ উঠছে না জেলেদের। স্থানীয় রূপালি ইলিশের আমদানি না থাকায় নদী উপকূলীয় অধিকাংশ আড়তের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের পথে। তবে ভর মৌসুমে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেন ইলিশ ব্যবসায়ী ও মৎস্য বিভাগ।

ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে জেলা সদরের মেঘনা উপকূলীয় জেলে পল্লী ও আড়তগুলোতে ঘুরে এবং জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, পদ্মা-মেঘনা নদীর চাঁদপুর নৌ সীমানার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৪৪ হাজার জেলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ আহরণ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। বছরে দুটি সময় অর্থাৎ জাটকা এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ সময়ে তাদেরকে প্রণোদনা দেওয়া হয়। এছাড়া এসব জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হচ্ছে।

সদর উপজেলার হরিণা ও আখনেরহাট মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ ইলিশের আড়ত বন্ধ। ইলিশের আমদানি না থাকায় অনেক আড়তে ব্যবসায়ীরা অবসর সময় কাটাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আড়তেই ঘুমিয়ে আছেন।

হরিণা মাছঘাটের ব্যবসায়ী নেছার সৈয়াল বলেন, নদীতে এখন মাছ কম। যে কারণে ব্যবসায়ীরা অনেকেই অবসর সময় কাটাচ্ছেন। তবে নদীতে পানি বাড়লে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বাকি আল্লাহর ইচ্ছা।

আখনের হাটের আড়তদার শহীদ সরদার বলেন, ইলিশের আমদানি না থাকায় ১১ আড়তের ৬টি বন্ধ। সঠিকভাবে জাটকা সংরক্ষণ না হওয়ায় ইলিশ নদীতে কমেছে। আবারও জেলেরা নদীতে নামলে জালের প্রকারভেদ নিয়ে নৌ পুলিশের হয়রানিতে আছেই।

সম্প্রতি কথা হয় সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া গ্রামের জেলে জাকির হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, তার নৌকায় তিনিসহ পাঁচজন জেলে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মেঘনায় ইলিশ ধরতে জাল ফেলেন। দুপুরে ফিরেছেন হরিণাঘাট আড়তে। ছোট বড় ৬টি ইলিশ বিক্রি করে পেয়েছেন ১ হাজার টাকা। এতে তাদের জ্বালানি খরচও উঠে না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মানিক জমাদার বলেন, নদীতে নাব্য সংকটসহ নানা কারণে ইলিশের বিচরণ কম। এসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসলে ইলিশের প্রাপ্যতা কমতে থাকবে। গত কয়েক বছর স্থানীয় ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে আসছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম বলেন, সদরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে আমরা বছরজুড়ে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছি। বিশেষ করে জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় আমরা জেলেদের সচেতন করে আসছি। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সফল হয়েছে। আগামী মৌসুমে এটির সুফল পাবে জেলেরা। তারপরেও নদীতে চর জেগে উঠা, নদীর পানি দূষণ ও ইলিশের খাদ্য হ্রাস পাওয়ায় মিঠা পানিতে ইলিশের বিচরণ কম। তবে ভরা মৌসুমে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

(ঢাকা টাইমস/২৩জুন/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মন্তব্য করুন

শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দায়িত্ব নিয়েই হেভিওয়েট আ.লীগ নেত্রী গ্রেপ্তার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির প্রশংসায় জুলকারনাইন সায়ের
ফের একাধিক প্রদেশে ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান, বিস্ফোরণ-গোলাগুলি
সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদের বাড়িতে আ.লীগ নেতার হামলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক
পুশ ইন ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার বিজিবির
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা