বাঙালি নারীর প্রধান পরিধেয় ভালোবাসার শাড়ি

মাহমুদা খাতুন
  প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০২৪, ১১:৪৩| আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪, ১২:০২
অ- অ+

'চলে নীল শাড়ি নিঙারি নিঙারি পরান সহিত মোর' কিংবা 'ঘরে তে এলো না সে তো /মনে তার নিত্য আসা-যাওয়া/পরনে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিঁদুর' দুই যুগে লেখা দুটো কবিতার এই চরণগুলোতে শাড়ির রূপকল্পে আধেয়কে মূর্ত করে আর আধারকে বিমূর্ত রেখেও নারী আর শাড়ির মধ্যে যে গভীরতর ব্যঞ্জনা সৃষ্টি হয়েছে তার আবেদন সর্বজনীন এবং শাশ্বত। প্রেম-ভালোবাসা-বিরহ-প্রতীক্ষাময় প্রাত্যহিক জীবনে পুরুষ, নারী আর শাড়ি নিয়ে চালু রয়েছে নানা সমীকরণ। আবহমান কাল থেকেই তাই নারী আর শাড়িবন্দনায় মুখরিত হয়েছে আমাদের কাব্য-সাহিত্য জগৎ। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদে তাঁত এবং তাঁতির প্রসঙ্গ থাকলেও শাড়ির উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে কালিদাসের লেখা সংস্কৃত কাব্য 'কুমারসম্ভব'-এ শাড়ির উল্লেখ পাওয়া যায়। মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গলে 'অগ্নি পাটের শাড়ি'র কথা উল্লেখ রয়েছে। গোপীচন্দ্রের গান' নামে এ সময়ের একটি পালাগানে 'লক্ষ্মীবিলাস' নামে যে শাড়ির কথা বলা হয়েছে তাতে হরেক রকমের মাছ আর পাখির ছবি দিয়ে নকশা করার বর্ণনা রয়েছে। 'সোনাই বিবির পালা'য় নায়িকার পরনের 'গঙ্গার জল', 'গুয়ার ফুল', 'হিয়া', 'ধ্যাতি' ইত্যাদি আলাদা আলাদা শাড়ির বর্ণনা রয়েছে।

'গঙ্গার জল' নামের শাড়ি সম্পর্কে বলা হয়েছে- "পানিতে থইলে গো শাড়ি শাড়ি পানিতেই মিলায় শুখেনায় থইলে শাড়ি ভাইরে পিঁপড়ায় টাইন্যা লইয়্যা যায়।" আধুনিক যুগে শাড়ির রঙে, জমিনে নকশায় যেমন পরিবর্তন এসেছে সাহিত্যে শাড়ির ব্যবহার প্রসঙ্গটিও হয়ে উঠছে বিচিত্রতর। আলোচ্য নিবন্ধের শুরুতেই বৈষ্ণব পদাবলী থেকে চণ্ডীদাসের পদ আর রবীন্দ্রনাথের কবিতা উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দ্রোহের কবি, সাম্যের কবি নজরুলও তাঁর একাধিক গান, কবিতায় নানা রঙ আর নামের শাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন। 'উদয়তারার শাড়ি','মেঘ ডুমুর শাড়ি', 'জলকে চলা ঝিয়ারি'র পরনের 'নীল শাড়ি',' ময়নামতির শাড়ি' নজরুলের গানে, কবিতায় কত বিচিত্র নামের শাড়ির নামই না রয়েছে! শুধু কি তাই! কবি তাঁর প্রেমিকাকে শাড়ির সঙ্গে কপালের টিপের রঙটিও নির্বাচন করে দিতে ভোলেননি, 'বাসন্তী রঙ শাড়ি প'রো খয়ের রঙের টিপ।' প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নারী, শাড়ি আর পরাবাস্তবতা একাকার হয়ে যায় যখন তিনি বলেন 'যেইখানে কল্কাপেড়ে শাড়ি পরে কোন এক সুন্দরীর শব/ যখন চিতায় চড়ে- আমের শাখায় শুক ভুলে যায় কথা।' সম্প্রতি কবি সুবোধ সরকারের লেখা 'শাড়ি' কবিতায় সদ্য বিবাহিতা মেয়েটির বিয়েতে পাওয়া ৫১টি রঙবেরঙের শাড়ি, অষ্টমঙ্গলায় পাওয়া আরো ৬টি শাড়ি নিয়ে এক করুণ আলেখ্য তুলে ধরা হয়েছে যা কবিতাটিকে এক ট্র্যাজিক মহিমা দান করেছে। বাংলা গানেও শাড়ির যথেষ্ট প্রয়োগ লক্ষযোগ্য। জারি, সারি, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, পল্লিগীতি, আধুনিক সব ধরনের গানেই শাড়ি অন্যরকম দ্যোতনা সৃষ্টি করেছে।

প্রসঙ্গত এখানে রবীন্দ্রনাথের লেখায় উদ্ধৃত একটি লোকগানের কথা উল্লেখ না করে পারছি না। পূর্ববঙ্গে অবস্থানকালে পাবনা-রাজশাহী অঞ্চলে নৌভ্রমণের সময় অন্য একটি নৌকা থেকে ভেসে আসা মাঝিদের গাওয়া গানের কিছু অংশ শুনতে পেয়েছিলেন কবি, যার কথাগুলো ছিল এ রকম- 'কন্যা ক্যান বা কর মন ভারি/ পাবনা থ্যাহে আন্যা দেবো ট্যাহা দামের মোটরি'। জানা যায় এই মোটরি এক সময় পাবনা অঞ্চলের প্রচলিত এবং জনপ্রিয় একটি শাড়ির নাম। হাল আমলের আধুনিক বাংলা গান 'এলোমেলো হাওয়ায় উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল', অথবা ব্যান্ডের গান 'বাসন্তী রঙ শাড়ি পরে ললনারা হেঁটে যায় রে' সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। যুগে যুগে এভাবেই কবিতা, গানে, সাহিত্যে শাড়ি অনুষঙ্গটি আমাদের সাহিত্যকে করে তুলেছে সমৃদ্ধতর।

সংস্কৃত 'শাটী', ‘সাত্তিকা’ বা 'সাত্তিক' শব্দ থেকে বাংলায় শাড়ি শব্দটি এসেছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। 'সাত্তিকা শব্দের অর্থ কাপড়ের টুকরা। অনেক গবেষকের মতে শুরুর দিকে তিন টুকরা কাপড় সমন্বয় করে শাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। শরীরের নিচের অংশে এক টুকরা, মধ্য ভাগে এক টুকরা এবং আর মাথা ঢাকার জন্য ব্যবহৃত হতো আরো একটি টুকরা। সময়ের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে তিন টুকরা কাপড়ের পরিবর্তে লম্বা অখণ্ড একটি মাত্র টুকরা কাপড়ই শাড়িতে রূপান্তরিত হয়।

আবার অনেকে মনে করেন আদিকাল থেকেই শাড়ি অখণ্ড কাপড় হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এটা ঠিক শাড়িই সম্ভবত সবচেয়ে প্রাচীন সেলাইবিহীন পোশাক। ধারণা করা হয় আর্যদের সময় থেকে ভারতবর্ষে শাড়ির প্রচলন ছিল। সংস্কৃত এবং বৌদ্ধ ভাষার সাহিত্যে মহিলাদের পোশাক হিসেবে সাত্তিক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে ৮ম শতাব্দীতেও শাড়ি ভারতীয় নারীদের প্রচলিত পোশাক ছিল। আংটি, দুল, হার ইত্যাদি অলংকারের সঙ্গে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত শাড়ি পরিধান করার রীতি ছিল মেয়েদের মধ্যে। ইতিহাসবিদ নীহাররঞ্জন রায়ও অখণ্ড বস্ত্রে প্রাচীন ভারতের নারীদের দেহ আবৃত করার কথা উল্লেখ করেছেন। মহাভারতে উল্লিখিত বস্ত্রহরণ অংশে দ্রৌপদীর পরনের বস্ত্রটিকে শাড়ি হিসেবেই অনুমান করা হয়ে থাকে। ভারত উপমহাদেশের কোটি নারীর আটপৌরে পোশাক হিসেবে শাড়ির ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। সময়ের বিবর্তনে শাড়ির রঙ, নকশা, জমিনে যেমন পরিবর্তন এসেছে, শাড়ি পরার ক্ষেত্রেও তেমনি এসেছে পরিবর্তন। অঞ্চলভেদে আবার শাড়ি পরার ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। তবে আধুনিক শাড়ি পরার প্রচলিত ধরনটির জন্য বাঙালি নারীরা ঋণী হয়ে আছে ঠাকুর পরিবারের কাছে। ঠাকুর পরিবারের বধূ জ্ঞানদানন্দিনী স্বামীর কর্মস্থল মুম্বাই অবস্থানকালে সেখানকার মেয়েদের শাড়ি পরার প্রচলিত রীতিটি আয়ত্ত করেন এবং কলকাতায় ফিরে সেই পদ্ধতিটি মেয়েদের মধ্যে চালু করেন। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ এবং পেটিকোট পরার বিষয়টিও তিনিই প্রথম শুরু করেন। কুচি দিয়ে শাড়ি পরা এবং বাম কাঁধে আঁচল তুলে দেওয়ার স্টাইলটিও জ্ঞানদানন্দিনীরই আবিষ্কার। বর্তমানে শাড়ি পরার ধরন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও ঠাকুরবাড়ির রীতিটিই অধিক প্রচলিত। চাহিদা আর জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই দিনে দিনে শাড়ির বুনন, নকশা আর জমিনেও এসেছে নানা বৈচিত্র্যময়তা। কাতান, বেনারসি, কাঞ্জিভরম, মনিপুরি, ইক্কাত, সম্বলপুরি, মসলিন, রাজশাহি সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়িসহ কত রকমের শাড়িই না প্রচলিত রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোও আজকাল শাড়ি নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নানামুখি গবেষণা। আধুনিক নারীর ফ্যাশন সচেতনতায় শাড়িকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে এই ফ্যাশন হাউজগুলোও যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে এ কথা স্বীকার করতেই হবে।

আমার কাছে শাড়ি মানে দাদির গায়ে জড়িয়ে থাকা দাদির পরনের ধবধবে সাদা শাড়ি আর আটপৌরে শাড়ি পরা খালা, ফুফু, চাচি, মামিদের দু'হাত ভরে মুঠোমুঠো মায়া বিলানো অবয়ব।

শাড়ি মানে মেধা, মনন, আত্মবিশ্বাস আর ব্যক্তিত্বের আলোয় উদ্ভাসিত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার নারী শিক্ষকগণ, শাড়ি ব্যতীত অন্য পোশাকে যাদের দেখেছি বলে মনে পড়ে না। শাড়ি মানেই মা নীল, সবুজ, বাসন্তী কিংবা ডুড়ে শাড়ির 'অঞ্চল ছায়া'য় ঢেকে থাকা আমার শৈশব, কৈশোরের দিনগুলো। স্কুল থেকে ফিরে এসে মায়ের আঁচল ধরে ঘুরঘুর করা, খাওয়ার পরে মায়ের শাড়ির আঁচলে মুখ মুছে নেওয়া আর শরৎকালে শেষ রাতের শীতলতা থেকে একটু উষ্ণতা খুঁজে নিতে মায়ের আঁচলটি নিজের গায়ে জড়িয়ে নেওয়া! জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় কোনো এক সোনার কাঠি কিংবা রূপার কাঠির অলৌকিক ছোঁয়ায় মায়ের পরনের শাড়িগুলো একের পর এক উড়তে থাকে মনের গহিনে, দ্রৌপদীর 'অন্তহীন শাড়ি'র মতো যার শুরু নেই, শেষও নেই! মনে আছে শৈশবে বাবার গামছাটাকে শাড়ি বানিয়ে প্রথম শাড়ি পরার অভিজ্ঞতার কথা।

শাড়ি পরার শখটাকে গুরুত্ব দিয়ে বাবা কিনে দিয়েছিলেন আমার বয়সের উপযোগী ছোট্ট একটা শাড়ি। তারপর আর একটু বড়ো হওয়ার পর মায়ের জন্য কেনা প্রতিটা নতুন শাড়ি পাট ভেঙে বাবার ইচ্ছায় অবধারিতভাবে আমাকেই পরতে হতো প্রথমে। 'বাসন্তী রঙ শাড়ি পরে কোন বঁধূয়া চলে যায়’ মনে আছে সেই সময় রেডিওতে এই গানটা খুব বাজতো। এই গানটা শুনে নাকি আগে থেকেই বাবার বাসন্তী রঙটা প্রিয় ছিল জানি না, একদিন বাবা বাসন্তী রঙের একটা শাড়ি মায়ের জন্য কিনে আনলেন। সেই প্রথম আমার বাসন্তী রঙ চেনা! মায়ের শাড়ির রঙ দেখে এভাবেই আমার অন্য রঙের সঙ্গেও পরিচিত হওয়া! সময়ের হাত ধরে এরপর স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে যে কলেজটিতে ভর্তি হলাম সেখানে কলেজ ড্রেস হিসেবে সবুজ পাড়ের সাদা শাড়ি পরা ছিল বাধ্যতামূলক। এর অন্যথা হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। অনভ্যস্ত হাতে একটু একটু করে গুছিয়ে শাড়ি পরা শুরু হলো সেই থেকেই। কর্মজীবনে এমন একটি পেশার সঙ্গে যুক্ত হলাম, যেখানে শাড়ি ছাড়া অন্য পোশাক পরার কথা চিন্তাও করতে পারিনি। আমার এবং আমার সমসাময়িক সকল নারী সহকর্মীরই পোশাক নিয়ে আছে এই একই অভিজ্ঞতা। কর্মক্ষেত্রে, উৎসবে, পালা-পার্বণে শাড়িই হয়েছিল আমাদের নিত্যদিনের পোশাক। শুধু কর্মসংশ্লিষ্টতার সূত্রেই নয় ভালোবেসেই নিজস্ব সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের প্রতীক প্রিয় পোশাকটিকেই বেছে নিয়েছিলাম পরম মমতায়। পোশাক হিসেবে শাড়ির সৌন্দর্য আর শক্তি যেমন আবিষ্কার করতে পেরেছি তেমনি এটাও উপলব্ধি করেছি সদ্য ইস্ত্রির ভাঁজ ভাঙা শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা নারীর ঘর আর বাহির সামলানোর লড়াই, শাড়ির নকশা আর জমিনের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা মায়া, মমতা আর ভালোবাসার গল্পটিও!

অজ পাড়াগায়ে জন্ম এবং বেড়ে উঠা মানুষ আমি। জন্মের পর থেকেই বিবাহিত মেয়ে এবং মহিলাদেরকে শুধু শাড়িই পরতে দেখেছি। শাড়ির বিকল্প হিসেবে বিবাহিত মহিলাদের অন্য কোনো পোশাক থাকতে পারে সেই সময় তা কল্পনাও করা যেত না। গত শতাব্দীর ৮০-এর দশক পর্যন্তও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের এটাই ছিল বাস্তব চিত্র। যতদূর মনে পড়ে ’৯০ দশকের গোড়া থেকে সালোয়ার-কামিজ, ম্যাক্সি মেয়েদের পোশাক হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। এই সময় থেকে কর্মক্ষেত্রেও মেয়েদের পদচারণা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। দশভুজা হয়ে নারীকে ঘর-বাহির সমানতালে সামলে নেওয়ার দায়িত্বটি পালন করতে হয় দক্ষতার সঙ্গে। সালোয়ার কামিজ, জিনস, ফতুয়া, টপস অধিকতর আরামদায়ক এবং কম সময়ে পরিধানযোগ্য বলে কর্মব্যস্ত নারী এগুলোকেই বেছে নিতে শুরু করে। আর পোশাক হিসেবে শাড়ি তার গ্রহণযোগ্যতা হারাতে থাকে ক্রমশ। গ্রামাঞ্চলেও আজকাল বালিকা থেকে গৃহবধূ সবার পরনেই সালোয়ার কামিজ আর ম্যাক্সি। অথচ ছোটোবেলায় দেখেছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরুনো কোনো মেয়ে শাড়ি না পরলে তাকে কত ভর্ৎসনা শুনতে হতো! অথচ সেই শাড়িই এখন অপাঙক্তেয়! জাকাত বা উপহার হিসেবেও গ্রামের মহিলারা আজকাল শাড়ি নিতে আগ্রহী হয় না, কাঁথা সেলাই করার জন্য বরঞ্চ পুরোনো সুতি শাড়ি পেলেই তারা বেশি খুশি হয়! গ্রামে বা শহরে শাড়ি যেন এখন শুধুই উৎসবের পোশাক! তাও খুব সীমিত ক্ষেত্রে। গায়েহলুদ, বিয়ে, বৌভাতসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে লেহেঙ্গা, ঘাগরা, শারারা নামের বিচিত্র সব পোশাক পরিহিত কনে এবং অন্য নারীদের ভিড়ে মনে সন্দেহ জাগে নিজের দেশের কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছি কি না!

নারীর ব্যস্ততা বা আয়াসসাধ্য পরিধানের কথা বিবেচনা করেই যে শুধু শাড়ি পরার প্রবণতা কমে যাচ্ছে আমার তা মনে হয় না। বিগত বছরগুলোতে শাড়ির সঙ্গে ইসলাম ধর্মকে সংশ্লিষ্ট করে এক ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে- শাড়ি ইসলামি পোশাক নয়, তাই মুসলিম নারীদের শাড়ি পরিহার করা উচিত। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মহিলাদের শাড়ি পরা কমিয়ে দেওয়ার পেছনে এটা একটা অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত বাঙালি নারীর প্রধান পোশাকটিকে হঠাৎ করে ইসলামি লেবাস নয় বলে প্রচার করার পেছনে কোনো অপতৎপরতা আছে কি না অথবা দেশীয় তাঁত শিল্পটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার কোনো অশুভ ইঙ্গিত বহন করছে কি না- বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। মুক্ত হাওয়ার এই যুগে নারী পোশাক হিসেবে শুধু শাড়িকেই আঁকড়ে ধরে রাখবে সেটা যেমন আশা করা যায় না, তেমনি কোনো হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে শাড়িকে দূরে ঠেলে রাখা হবে সেটিও কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে শাড়িকে হটিয়ে দেওয়ার যত চেষ্টাই চালানো হোক না কেন আমার বিশ্বাস ঐতিহ্য, আভিজাত্য আর নিজস্ব সংস্কৃতির ধারক আর বাহক শাড়ি সগৌরবে আর স্বমহিমায় টিকে থাকবে উপমহাদেশের প্রতিটি নারীর কাছে।

মাহমুদা খাতুন: লেখক ও সাবেক অধ্যক্ষ, ভাসানটেক সরকারি কলেজ, ঢাকা

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
খিলক্ষেতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড়, ৫ ডাকাতসহ গ্রেপ্তার ২৯
সীমান্ত নিরাপত্তায় ১১ জেলায় আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন
গেন্ডারিয়ায় পায়ে রড ঢুকিয়ে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
অনলাইন সংবাদ পোর্টালের জন্য নীতিমালা করছে সরকার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা