সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৯
অ- অ+

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার পলাতক ৩২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার্জশিটভুক্ত ৩৬ আসামির মধ্যে আব্দুল আজিজ, উৎপল পাল, জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর ৩২ জন পলাতক থাকায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া ঋণ অনুমোদন করিয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দেয় দুদক। এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে দুদক অভিযোগপত্র দাখিল করলে আসামির সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়ায়। তবে ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক এফএভিপি মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাঁদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়।

চার্জশিটে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম ও নুরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর একজন কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে কাগজে-কলমে তৈরি করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে ওই ঋণের অর্থ আলফা ট্রেডিং, ক্লাসিক ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংসহ একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, যেগুলোর মালিকানায় ছিলেন সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মচারীরা। এর একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সালিশে বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে একজনের মৃত্যু
বরিশালের নতুন ডিসি মামুন খন্দকার
আ. লীগ আমলে বঞ্চিত তিন বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তা পেলেন বিশেষ সুবিধা
কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা ১৬১১১-এ কল, যাত্রীবাহী লঞ্চে অসুস্থ নারীকে চিকিৎসা সহায়তা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা