মাদ্রাসা ভবন নির্মাণে অনিয়ম, শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত পুরুত্বের চেয়ে কম ফ্লোর ঢালাই এবং তদারকি না থাকার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
মাদ্রাসা সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তদারকি না থাকায় ঠিকাদার নিম্নমানের খোয়া দিয়ে ভবনের দুই কক্ষের ফ্লোর ঢালাই সম্পন্ন করেছে। বাকি একটি কক্ষ ও বারান্দার ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকরা বাধা দেন। এতে বাকি ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্ধারিত তিন ইঞ্চির পরিবর্তে একটু কম পুরুত্বে ফ্লোর ঢালাই করা হয়।
মাদ্রাসার সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘খোয়া ছিল নিম্নমানের। পানি দিয়ে না ধুয়েই সেই খোয়া ঢালাইয়ে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। পরে আমি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে নিয়ম অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো কাজ করা যাবে না বলে জানায়।’
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘শুরুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী এলেও পরে তাকে আর দেখা যায়নি। কোনো তদারকি ছাড়াই ইচ্ছেমতো কাজ হচ্ছে। এসব কারণে একাধিকবার কাজ বন্ধ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ ফ্লোর ঢালাইয়ে ব্যবহৃত খোয়া ছিল একেবারেই নিম্নমানের। ঢালাইয়ের মিশ্রণেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছিল না। পরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি নুর জামাল মৃধা বলেন, ‘এখানে আমি যে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড দিয়েছি- সবই একশোতে একশো মানের। একটি মালও দুই নম্বর নয়। সিমেন্টও গরম গরম দিয়েছি।’
এ বিষয়ে কাজটির তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটুয়াখালী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. কামরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ডাস্ট বা রাবিশ দিয়ে তো ঢালাই হয় না। তিন ইঞ্চির চেয়ে কম ঢালাই দেয়ার কথা না। আমি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
(ঢাকাটাইমস/১ জুলাই/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































